ধর্ষকের মা-বোন থাকতে নেই

মার্চ ৩, ২০১৮ ১১:২৮ অপরাহ্ণ

:: একটি বড় ব্যাগ কাঁধে সকাল ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হচ্ছে রায়হান। চাচা রোকন খান সিঁড়ির নিচে দেখা পেয়ে জানতে চান, ‘ব্যাগে কী’? ‘জিন্সের প্যান্ট’ উত্তর দিয়েছিল রায়হান। প্যান্ট ব্যবসায়ী ভাতিজার কথায় সন্দেহ হয়নি চাচার। রায়হান রিকশা নেয়। কিছুদূর গিয়ে রিকশা ছেড়ে নেয় অটোরিকশা। লক্ষ্য রেললাইনে গিয়ে ফেলে দেওয়া। সিএনজিচালক সন্দেহ করতে পারে ভেবে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে চলে যায় রায়হান। ফলের এক দোকানের পাশে বস্তাটি রেখে সরে পড়ার মুহূর্তেই দোকানদার জানতে চান, ‘বস্তায় কী’। রায়হান বলে, ‘কাপড়। একটু দেইখেন’। কিছুদূর ঘুরেফিরে এসে ব্যাগটি নিয়ে রাখে স্টেশন এলাকায়। তারপর নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দূর থেকে নজর রাখে। সন্ধ্যা হয়ে এলে বাসার উদ্দেশে রওনা দেয় রায়হান।

আপন ফুফাতো বোন আঁখিকে ধর্ষণশেষে হত্যার পর এভাবেই অপরাধ লুকাতে চেয়েছিল তারিকুল ইসলাম রায়হান (৩৫)। আঁখির নিখোঁজ হওয়া, লাশ উদ্ধার—এত কিছুর মধ্যেও পরিবারের কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে পাঁচ দিন স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়িয়েছে রায়হান। মা-বাবা, স্ত্রী কারোরই সন্দেহ হয়নি। মেয়ে হত্যার খবর পেয়ে বিদেশে (মরিশাস) থেকে আঁখির বাবা বেলায়েত হোসেন আরিফ দেশে ফিরে আসেন। তাঁরও

সন্দেহ হয়নি ভাগ্নে রায়হান এত বড় অপরাধটি করতে পারে। রায়হান এমনকি মামার সঙ্গে আঁখির কবর জিয়ারত করতে মাদারীপুরের কালকিনি গ্রামের বাড়িতে যায়। এদিকে খুনিকে ধরতে পুলিশ তৎপর। ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার তদন্তের প্রয়োজনে রায়হানের মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে নেয় রেলওয়ে থানা পুলিশ। আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা আঁখির লাশের সঙ্গে থাকা একটি কাঁথা রায়হানের মা-বাবাকে দেখানো হয়। তারা পুলিশকে জানান, ওই কাঁথা গায়ে দিয়ে আঁখি ঘুমাত। এরপরই পুলিশ অনেকটা নিশ্চিত হয় যে রায়হানই খুনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসিন ফারুক গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, শুক্রবার বিকেলে মাদারীপুরের কালকিনি থানার আণ্ডারচর গ্রামের বাড়ি এলাকা থেকে রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে পাঠানো হলে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে রায়হান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

যেভাবে হত্যা : শনিবারের সেই সকালে রায়হানের মা-বাবাসহ পরিবারের অন্যরা বাসার বাইরে। রায়হানের স্ত্রীও একমাত্র সন্তানকে (কন্যা) নিয়ে বাবার বাড়িতে। শুধু আঁখি ও রায়হান সেদিন বাসায় ছিল। রায়হানের জবানবন্দির তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, রায়হান বাসার ড্রয়িং রুমে টিভি দেখছিল। আঁখি ছিল নিজ রুমে। একপর্যায়ে আঁখির রুমে গিয়ে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয় রায়হান। এতে আঁখি চরমভাবে ক্ষিপ্ত হলে জোরপূর্বক আঁখিকে ধর্ষণ করে রায়হান। আঁখি তখন ধর্ষণের কথা পরিবারের সবাইকে বলে দেওয়ার হুমকি দিলে গলাটিপে তাকে হত্যা করে আপন মামাতো ভাই। এরপর লাশ গুম করার চেষ্টায় পাতলা কাঁথা দিয়ে লাশ মুড়িয়ে ফেলে।

রায়হান স্বীকারোক্তিতে বলেছে, আঁখিকে উত্তেজনার বসে হত্যা করে সে। লাশ ফেলে এসে বাসায় ফিরে পরিবারের কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে। ঘটনার পর সে আঁখির হাতের সোনার চুরি ও মোবাইল ফোনও বিক্রি করে দেয়।

আঁখির বড় মামা নুরুল ইসলামের ছেলে রায়হান। নুরুল ইসলাম বলেন, মেয়েটির লেখাপড়াসহ সার্বিক খোঁজখবর রাখতেন তিনি। কিন্তু তাঁর ছেলেই যে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এ তাঁর মাথাও আসেনি। আঁখির মামাতো ভাই শাহীন বাবু বলেন, কাছের কেউ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশ তাদের এ কথা আগেই জানিয়েছিল।

মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার আণ্ডারচর গ্রামের বেলায়েত হোসেন আরিফ ও মা হাসনাহেনার মেয়ে আঁখি। পাঁচ বছর আগে তার মা-বাবা চাকরি করার জন্য মরিশাস চলে যান।

আঁখি মামা মোহাম্মদ রোকন (রায়হানের চাচা) ও মামি জেসমিনের সঙ্গে পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের ই ব্লকের ৩৩ নম্বর রোডের ৩৮ নম্বর বাড়িতে থাকত। পাশের বাসায় থাকতেন আঁখির আরেক মামা নুরুল ইসলাম, যাঁর সন্তান রায়হান। লাশভর্তি ব্যাগ ফেলে আসার পরদিন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের কাছ থেকে বড় কালো ব্যাগের ভেতর আঁখির লাশ পায় পুলিশ।

উৎসঃ কালের কণ্ঠ

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1156 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com