দুদকের হটলাইন : জয় ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে বিপাকে দুর্নীতি দমন কমিশন

ডিসেম্বর ৩, ২০১৭ ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ

বিশেষ সংবাদদাতা : : শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ নিয়ে বিব্রত দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল শেখ রেহানার পুত্র রিদওয়ান সিদ্দিক ববি এবং শেখ হাসিনার রাজাকার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। এরমধ্যে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ রেহানার নামে কয়েকটি অভিযোগ নথিবদ্ধ করে বিপাকে দুদক। অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে একব্যক্তি দুদকে’র হটলাইনে ফোন করে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।সূত্রমতে, জয়ের বিরুদ্ধে ফোনে অভিযোগ নেয়ার সময় দুদক কর্মকর্তা প্রথমে জয়ের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেননি। অভিযোগের শেষের দিকে এসে জয়ের আসল পরিচয় জানতে পেরে নড়েচড়ে বসেন কর্মকর্তা।

দুদকের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ফোনে একজন অভিযোগকারী যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয়ের চারটি বিলাসবহুল বাড়ির নাম ঠিকানা দেয়। এরমধ্যে একটি বাড়ি নিউইয়র্কে, একটি ওয়াশিংটনে, একটি ভার্জিনিয়ায় এবং একটি ম্যারিল্যান্ডের পোটোম্যাকে। ম্যারিল্যান্ডের পোটোম্যাকের বাড়িটি সাম্প্রতিক সময়ে কেনা। পোটোম্যাকের বাড়িটির দাম ৬০০ কোটি টাকার উপরে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, ম্যারিল্যান্ডের পোটোম্যাকের প্রাসাদোপম বাড়িটি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কাছে অজানা। শেখ হাসিনা গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে জয়ের এই নতুন বাড়িতেই কয়েকদিন বিশ্রাম নিয়েছেন। এ ছাড়াও ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের ৮১০ কোটি টাকা লুটের সঙ্গে জয়ের জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমান দুদকের হটলাইনে দেয়া হয়। প্রমান দিয়ে বলা হয়, ভার্জিনিয়ায় একটি পাব-এ (Pub) বসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড লুটের পরিকল্পনা করা হয়। বৈঠকে জয় এবং তার ভারতীয় বন্ধু রাকেশ আস্তানাসহ আরো দু’জন বিদেশী বন্ধু উপস্থিত ছিল।

অপরদিকে, শেখ রেহানার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যাবহার করে গুলশানের ৮৪ নম্বর রোডের এনইএল (২)/১০ নম্বর বাড়িটি অবৈধভাবে দখল করেছেন শেখ রেহানা। এমনকি বাড়িটি সাজানোর জন্য সরকারি ফান্ড থেকে প্রভাব খাটিয়ে ১০ কোটি টাকাও তুলেছেন। শেখ হাসিনা কথায় কথায় ‘তার কিছু নেই তার বোনের কিছু নেই’ ‘তারা কোনো কিছুর জন্য রাজনীতি করেননা ‘ এসব বললেও শেখ রেহানাকে গুলশানে দেড় বিঘা জমির বাড়িটির দখল কোন যুক্তিতে দেয়া হলোএ নিয়ে প্রশ্ন করার সাহস কোনো গণমাধমের নেই। প্রশ্ন থাকলেও গুম খুনের ভয়ে কেউ কিছু বলছেনা।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য জানাতে গত ২৭ জুলাই টোল ফ্রি ওয়ান-জিরো-সিক্স (১০৬) নম্বরটি চালু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এই হটলাইনে তথ্যদাতাদের নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে তারা তথ্য নেয়। দুদক কলসেন্টারে মোট ২০ জন কর্মকর্তা কাজ করেন। ছুটির দিন ছাড়া সপ্তাহের অন্যদিনগুলোতে সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দুদক কর্মকর্তারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে ফোন অভিযোগ নেন। দুর্নীতির অভিযোগ জানতে হটলাইন চালুর পর থেকে গত তিন মাসে (নভেম্বর পর্যন্ত) আড়াই লাখেরও বেশি ফোন পেয়েছে দুদক। তবে সব অভিযোগ দুদক আইনে আমলযোগ্য নয়। এই তিন মাসে ছয়শর মতো অভিযোগ আমলে নিয়েছে দুদক।

যেসব অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে তার মধ্যে এ পর্যন্ত ২৫টি টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য কাজ শুরু করেছে দুদক। আর প্রায় ৫৭টি অভিযোগ পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। বাকিগুলো নিয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দুদক সচিব শামসুল আরেফিন জানান, গড়ে প্রতিদিন দুদকের হটলাইনে এক হাজারের মতো ফোন পায় দুদক। এ পর্যন্ত দুদক ৬০০ অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে লিখিতভাবে যাচাই বাছাই সেলের কাছে পাঠিয়েছে। দুদক আইনের আওতায় সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঘুষ দেয়া বা নেয়া, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্থের অবৈধ ব্যবহার, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং ও ব্যাংক জালিয়াতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করবে সংস্থাটি। অর্থাৎ এসব বিষয়ে অভিযোগ জানালে দুদক ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে হটলাইনে ভূমি দখল, মাদক বিক্রি, এমনকি গৃহকর্মী নির্যাতন, স্বামী–স্ত্রীর কলহ, দলিল জাল, জমি দখল নিয়েও অভিযোগ আসছে।

এদিকে শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের নেতা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে ফোন এলে কোনো কর্মকর্তাই এখন আর অভিযোগ নিতে চাননা। দুদকের একটি সূত্র বলেছে, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ রেহানার বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ লিখিতভাবে নিয়ে যাচাই বাছাই সেলের কাছে পাঠানোর পর এটি উচ্চপর্যায়ে জানাজানি হয়ে যায়। সূত্রের দাবি, এরপরই শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে অভিযোগ গ্রহণ না করার ব্যাপারে অলিখিত নির্দেশ জারি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলেছেন, তারা সকল অভিযোগ গ্রহণ করছেন এবং যাচাই বাছাই শেষে যথানিয়মে তদন্তে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে তবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, টোল ফ্রি ফোন চালু করে দুদক বিপদে পড়েছে। কারণ সকল অভিযোগই আসছে শেখ হাসিনা পরিবার এবং আওয়ামী লীগের নেতার কর্মীদের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার বেয়াই রাজাকার মোশাররাফ ফরিদপুরে হিন্দু বাড়ি দখল করেছেন সেই অভিযোগ ও রয়েছে।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1248 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com