ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায় কাঁচা টমেটো

ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭ ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ

প্রতিদিন দুটো করে কাঁচা টমেটো খেলে বায়ু দূষণ যতই বাড়ুক না কেন ফুসফুসের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও চিন্তাই করতে হবে। কারণ ফুসফুস-এর দেখাশোনার দায়িত্ব সেক্ষেত্রে নিয়ে নেবে এই রক্তিম সবজিটি। কিন্তু টমেটো কিভাবে ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়াবে? ব্লমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেল্থের গবেষকদের করা একটি স্টাডিতে দেখা গেছে টমেটোর ভেতরে এমন অনেক শক্তিশালী উপাদান রয়েছে, যা ধূমপান এবং বায়ু দূষণের কোনও প্রভাব যাতে ফুসফুসের উপর না পরে, সেদিকে খেয়াল রাখে।

সেই সঙ্গে ফুসফুসের কর্মক্ষমতাও মারাত্মক বৃদ্ধি করে। প্রসঙ্গত, জার্মানি, ইংল্যান্ড এবং নরওয়ের প্রায় ৬৮০ জন বাসিন্দার উপর প্রায় ১০ বছর ধরে এই গবেষণাটি চালানোর পর টমেটোর এইসব গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। এই পরীক্ষাটি চলাকালীন গবেষকরা লক্ষ করেছিলেন যে নিয়মিত টমেটো খাওয়ার অভ্যাস করলে একদিকে যেমন ফুসফুসের ফাংশনের উন্নতি ঘটে, তেমনি ভঙ্গুর শরীরও বল ফিরে পায়। সেই সঙ্গে আরও সব শারীরিক উপকারিতা মিলতে শুরু করে, যে সম্পর্কে এই প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

রান্নায় এই সবজিটির ব্যবহার বাঙালিরা প্রায়শই করেই থাকেন। কিন্তু কাঁচা টমাটো খাওয়ার অভ্যাস সচরাচর খুব একটা চোখে পরে না। একথা বলতে দ্বিধা নেই যে রান্নার পরিবর্তে যদি কাঁচা অবস্থায় নিয়মিত ২-৩ টা করে টমাটো খাওয়া যায় তাহলে দারুন উপকার মেলে। এক্ষেত্রে শরীরের যে যে উপাকার হয়…

১. ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি দূর করে:
নিয়মিত যদি একটা করেও টমেটো খেতে পারেন তাহলে দেহের অন্দরে দিনের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দূর হয়। সেই সঙ্গে ভিটামিন এ, পটাশিয়াম এবং আয়রনের চাহিদাও পূরণ হয়। এবার ভাবুন তো যদি একটার জয়গায় দুটো করে টমাটো খেতে পারেন, তাহলে কতটাই না উপকার মেলে। প্রসঙ্গত, নার্ভের কর্মক্ষমতা বাড়াতে পটাশিয়াম বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। অন্যদিকে আয়রন, রক্তাল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।

২. হাড় শক্তপোক্ত হয়:
ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-কে সমৃদ্ধি হওয়ার কারণে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে টমাটোর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো বুড়ো বয়সে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের হাত থেকে বাঁচতে এখন থেকেই টমাটো খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন।

৩. ক্যান্সার বিরোধী:
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে টমাটোয় উপস্থিত লাইকোপেন প্রস্টেট, কলোরেকটাল এবং স্টমাক ক্যান্সার রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে লাইকোপেন হল একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা কোষের বিভাজন ঠিক মতো হতে সাহায্য করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমে। আর যদি একবার ক্যান্সার কোষ জন্ম নিয়েও নেয়, তাহলেও যাতে তার বৃদ্ধি দ্রুত গতিতে না হয়, সেদিকে টমাটো খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মারণ রোগ শরীরকে ক্ষয় করার সুযোগ পায় না।

৪. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:
টমাটোয় উপস্থিত লাইকোপেন নামে একটি উপাদান ত্বকের সৌন্দর্যতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে আরেকভাবেও এই সবজিটিকে কাজে লাগাতে পারেন। কীভাবে? ১০-১২ টা টমাটো নিয়ে ভেতরটা পরিষ্কার করে নিন। তারপর টমনাটোর স্কিনটা ভুল করে সারা মুখে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পরে ভাল করে মুখটা ধুয়ে নিন। সপ্তাহে কয়েকবার এমনভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলে দেখবেন বলিরেখা কমতে শুর করবে। সেই সঙ্গে স্কিনের ঔজ্জ্বল্যও বৃদ্ধি পাবে।

৫. ধূমপানের কুপ্রভাব থেকে বাঁচায়:
টমাটোয় রয়েছে কিউমেরিক এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, যা কার্সিনোজের প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। ফলে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। তাই যারা একান্তই ধূমপান ছাড়তে পারছেন না, তারা দয়া করে দিনে ২-৩ টে কাঁচা টমাটো খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন।

৬. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:
চুলের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধিতে ভিটামিন-এ-এর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আর এই উপাদানটি প্রচুর মাত্রায় রয়েছে টমেটোতে। তাই দীর্ঘদিন যদি চুলকে সুন্দর রাখতে চান, তাহলে কী করণীয়, তা নিশ্চয় আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না। প্রসঙ্গত, দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতেও ভিটামিন-এ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৭. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর হয়:
কখনও খাবারের সঙ্গে তো কখনও অন্যভাবে আমাদের শরীরে টক্সিক উপাদানের প্রবেশ ঘটে। এই ক্ষতিকারক উপাদানগুলি যাতে শরীরের কোনও ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সেই সঙ্গে একাধিক রোগের হাত থেকেও রক্ষা করে। টমাটো যেহেতু অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, তাই তো শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত কাঁচা টমাটো খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৮. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:
টমেটোতে উপস্থিত ভিটামিন এ, ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের আশঙ্কা তো কমায়ই, সেই সঙ্গে রাত-কানার মতো রোগ দূর করতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি কমে যাক, এমনটা যদি না চান, তাহলে নিয়মিত টমাটো খেতে ভুলবেন না যেন!

৯. হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:
টমাটোয় উপস্থিত ভিটামিন বি এবং পটাশিয়াম, শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। সেই সঙ্গে রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, যাদের পরিবারে হাই কোলেস্টেরল এবং ব্লাড প্রেসার রোগের ইতিহাস রয়েছে তারা আজ থেকেই কাঁচা টমাটো খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন আয়ু বাড়বেই বাড়বে।

১০. কিডনি স্টোনের আশঙ্কা কমায়:
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে বীজ সমেত টমাটো খেলে কিডনিতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা একেবারে শূন্যে এসে দাঁড়ায়।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1028 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com