জোকস: কথা বলা ব্যাঙ ও মন্টুর বাপ

ডিসেম্বর ২২, ২০১৭ ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ

(১) ফেসবুকে ঠগবাজ এক তরুণের ‘প্রেমের ফাঁদে’ পড়েছে সুন্দরী মিলি। ধূর্ত লোকটির চাপাবাজীতে তরুণী রীতিমতো পাগল।

তো একদিন ফিটফাট হয়ে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এল ঠগবাজ। তারা পার্কে ঝিলের ধারে বসে বাদাম খাচ্ছে। তরুণের গায়ে দামি পোশাকের সঙ্গে আছে উচ্চমূল্যের মোবাইল ফোন। তবে ফোনটা ঠিক যেন মিলির সঙ্গে থাকা ফোনটির মতো, একই ব্রান্ডের, অবিকল।

এটা দেখে মজা করে প্রেমিকা বললো: তোমার ফোনটা তো অদ্ভুত! মনে হয় চুরি করে এনেছো!
ঠগবাজ ঘাবড়ে গিয়ে: হায় হায়! এটা তুমি জানলা কেমনে, জানু?

হাসিমুখে প্রেমিকা: এত সিরিয়াস হচ্ছে কেন? তোমার প্যান্ট, জ্যাকেট, টিশার্ট তো… (এই বলে সঙ্গে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে প্রেমিকের জন্য আনা পিস্তলসদৃশ লাইটারটা বের করতে থাকে। এটা দেখে ঠগবাজ আরও ভয় পেয়ে যায়)

ঠগবাজ প্রেমিকার পায়ে পড়ে যায়। হাউমাউ করে কেঁদে বলে: আপা, এইবারের মতো মাফ কইরা দেন। আপনে যে গোয়েন্দা পুলিশএইটা আগেই একটু একটু সন্দেহ হইছিল। ঘাড়ট্যারা বল্টু কইছিল, ডিবি পুলিশের স্মার্ট মেয়েরা আজকাল ছিনতাইকারীদের ফাঁদে ফেলছে।

আপাজান, মোবাইলটা ছিনতাই করা ঠিক আছে কিন্তুক জ্যাকেট-প্যান্ট… এইগুলা লন্ড্রি থেকে ভাড়ায় নেওয়া আর টি-শার্টটা বন্ধুর কাছ থেকে ধার করছি, তবে মোটরসাইকেলটা চুরি করা। আপনারে সব সত্য কইলাম।

প্রেমিকা: তুমি তো আস্ত একটা ছ্যাচ্চর মনে হচ্ছে!

ঠগবাজ: আপা আমারে অ্রারেস্ট কইরেন না, মাত্র তিনমাস আগে ছাড়া পাইছি…এটিএম লুট করতে গিয়া ধরা খাইছিলাম…

এইবার প্রেমিকা দুনিয়া কাঁপানো চিৎকার দেয় ‘বাঁচাও’ বলে। লোকজন ছুটে এসে ঠগবাজকে পাকড়াও করে। ছুটে আসে পুলিশ। দেখে, আরে এ তো কুখ্যাত ক্রিমিনাল ‘ব্যাঙা বাবু’!

(২) গভীর রাতে টাল-মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরেছে কুখ্যাত মাতাল ও রংবাজ হেলমেট-জামান। কিন্তু তার বউ আজ কিছুতেই দরোজা খুলছে না। জামান তার হাতে সার্বক্ষণিক থাকা হেলমেট দিয়ে দরোজায় আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে বউ বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করে- দরেজায় এমন ধাক্কাধাক্কি করছে কে?

হেলমেট-জামান: এই শহরের শ্রেষ্ঠ সুন্দরীর জন্য কিছু তাজা নীলপদ্ম নিয়ে এসেছিলাম।

এবার দৌড়ে এসে দরোজা খুলে স্ত্রী। জামান তার হাতের তলা দিয়ে দ্রুত ভেতরে ঢুকে যায়। ঘুরে দাঁড়িয়ে স্ত্রী জিজ্ঞেস করে: কই, তোমার হাতে নীলপদ্মগুলো তো দেখছি না?

হেলমেট-জামান: আমার সামনে তো শহরের শ্রেষ্ঠ সুন্দরীকেও দেখছি না!

(৩) বিশাল এলাকা নিয়ে এক খামার। এক চোর খামারের দরোজায় ভদ্রলোকের বেশে এসে হাজির। মালিকের সঙ্গে দেখা করে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো: স্যার, আপনার অনুগ্রহ চাইছি।

খামার মালিক: বলুন।

আগন্তুক: আমার ট্রেন সন্ধ্যা ৫টায়। এখন পৌনে পাঁচটা বাজে। কিন্তু সরকারি রাস্তা দিয়ে গেলে সাড়ে ৫টা বেজে যাবে স্টেশনে পৌঁছাতে।

খামার মালিক: তো আমি কী করতে পারি?

আগন্তক: স্যার, আপনার খামারের ভেতর দিয়ে আড়াআড়ি হেঁটে যাওয়ার অনুমতি দিলে আমি ট্রেনটা ধরতে পারতাম আর কি।

খামার মালিক: অবশ্যই যেতে পারবেন। আমি এমন ব্যবস্থা করছি যাতে আপনি ৫ মিনিটে স্টেশনে পৌঁছে যান।

আগন্তক: আপনি কি আপনার গাড়ি দিয়ে আমাকে পৌঁছে দেবেন?

খামার মালিক: নাহ্‌! তেমন সম্ভাবনা নেই। খামারে চোর ঠেকাতে রাখা পোষা কুত্তা বাঘা আর বুলেটকে আপনার পেছনে লেলিয়ে দিচ্ছি। দেখবেন, ৩ মিনিটে আপনি ট্রেনে বসে আছেন।

আগন্তুক: অ্যাঁ, মাথায় সমস্যা আছে নাকি?

খামার মালিক হুঁঙ্কার ছাড়েন: বুলেট-বাঘা কই গেলি? জলদি আয়!

আগন্তক: ‘ওরে বাবা’ বলেই উল্টোদিকে ভোঁ দৌড়।

(৪) যদি গাড়ির মালিক নিজে দরোজা খুলো তার স্ত্রীকে গাড়িতে ঢুকতে বা বের হতে সাহায্য করছে তাহলে এর দুটো ব্যাখ্যা হতে পারে। এক হচ্ছে বউটি নতুন দুই হচ্ছে গাড়িটি নতুন- মন্টুর বাপের ডায়েরি থেকে

(৫) মন্টুর বাপের বয়স তখন আশি ছাড়িয়েছে। শীতের সকালে মর্নিং ওয়াক করছিলেন। পার্কের এক কোনে দেখলেন শীতে কাতর বড়সর এক ব্যাঙ। তিনি অতি কষ্টে ঝুঁকে ব্যাঙটিকে তুলে নিজের কোটের পকেটে রাখতে গেলেন। ব্যাঙটি কথা বলে উঠলো: হে মানুষ। যদি আমারঠোঁটে চুমু খাও তাবে আমি এক অপরূপা রাজকন্যায় রূপান্তরিত হবো এবং পরবর্তী একবছর তোমার সঙ্গে থাকবো।

মন্টুর বাপ কিছু না বলে হাঁটতে থাকলেন।

ব্যাঙ ফের চিৎকার করলো: যদি আমাকে একটি মাত্র চুমু দাও তাহলে আমি সুন্দরী শ্রেষ্ঠ আর বুদ্ধিমতী এক রাজকন্যায় রূপান্তরিত হবো। তোমায় বিয়ে করে সারাজীবন তোমার সঙ্গে থাকবো। শুনতো পাচ্ছো তো আমার কথা?

মন্টুর বাপ: শুনতে পাচ্ছি বাপু! আমার যা বয়স তাতে সঙ্গে একটা কথা বলতে পারা ব্যাঙ থাকাটা অন্য সব কিছু থেকে আনন্দদায়ক হবে।

পকেটে ব্যাঙ নিয়ে মন্টুর বাপ বাড়ির পথ ধরল

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1043 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com