জয়ের দুর্নিতীর তথ্য পেয়েও তদন্ত করছেনা দুদুক

জানুয়ারি ৭, ২০১৮ ২:৪৪ অপরাহ্ণ

বিশেষ রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয়ের চারটি বাড়ির খবর নিয়ে জটিলতায় পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) । দুদকের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে একব্যক্তি দুদকে’র হটলাইনে ফোন করে সজীব ওয়াজেদ জয়ের চারটি বিলাসবহুল বাড়ির নাম ঠিকানা দেয়। এরমধ্যে একটি বাড়ি নিউইয়র্কে, একটি ওয়াশিংটনে, একটি ভার্জিনিয়ায় এবং একটি ম্যারিল্যান্ডের পোটোম্যাকে। ম্যারিল্যান্ডের পোটোম্যাকের বাড়িটি সাম্প্রতিক সময়ে কেনা। পোটোম্যাকের বাড়িটির দাম ৬০০ কোটি টাকার উপরে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, ম্যারিল্যান্ডের পোটোম্যাকের প্রাসাদোপম বাড়িটি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কাছে এতদিন অজানা ছিল ।

তবে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ অধিবেশোনে যোগদান শেষে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর নাম করে অনেকটা গোপনেই জয়ের ম্যারিল্যান্ডে’র বাসায় ওঠেন। তবে মেরিল্যান্ডে জয়ের পোটোম্যাক এলাকার বাড়ীতে উঠলেও পত্র পত্রিকার রিপোর্টে এটি গোপন রাখা হয়েছিল। পত্র পত্রিকার রিপোর্টে বারবার প্রচার করা হয়েছিল শেখ হাসিনা তার পুত্র জয়ের ভার্জিনিয়ার বাসায় উঠেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ের নতুন বাড়ির তথ্যটি গোপন রাখা যায়নি কারণ সেই সময় ২৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়লে ম্যারিল্যান্ডে জয়ের নতুন বাড়ির খবরটি কেউ কেউ জেনে যায়। এরপরই এ ব্যাপারে কয়েকটি পত্রিকা সংবাদ প্রচার করে।

স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে মেরিল্যান্ড রাজ্যের পোটোম্যাক সবচেয়ে দামি এবং বিলাসবহুল এলাকা হিসাবে পরিচিত। সাধারনত: এই এলাকায় দেশটির বিলিয়নিয়ররা বসবাস করেন। বিশাল এলাকা নিয়ে এই এলাকার প্রতিটি বাড়ীই ছবির এই বাড়িটির মতোই বিলাসবহুল। প্রতিটি বাড়ীর রয়েছে আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই এলাকায় সাধারনত: ১০০ কোটি টাকার নিচে কোন বাড়ি নেই। সূত্রমতে, জয়ের পোটোম্যাক এলাকার বাড়িটির দাম প্রায় ৬শ কোটি টাকা।

দেশে বিদেশে জয়ের নির্দিষ্ট কিছু ধনী ঘনিষ্ঠজন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে পোটোম্যাকের বাড়ীটির খবর অজানা।শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর পূনরায় জয়ের ভাগ্য খুলে যায়। লুট হতে থাকে দেশের ব্যাংক বীমা শেয়ার বাজার আর দেশের সকল অর্থকরী প্রতিষ্ঠান। এই লুটের টাকা দিয়েই সজিব ওয়াজেদ জয় ম্যারিল্যান্ডের পোটোম্যাক এলাকায় বর্তমান বাড়ীটি কেনেন বলে প্রাথমিক গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা তাদের নিজস্ব উদ্যোগে প্রাথমিক তদন্ত করলেও জয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের সাহস করছেনা দুদক।

উল্লেখ্য, দুদকের ১০৬ হটলাইনে জয়ের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চারটি বাড়ি ছাড়াও ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের ৮১০ কোটি টাকা লুটের সঙ্গে জয়ের জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমানও দেয়া হয়। প্রমান দিয়ে বলা হয়, ভার্জিনিয়ায় একটি পাব-এ (Pub) বসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড লুটের পরিকল্পনা করা হয়। বৈঠকে জয় এবং তার ভারতীয় বন্ধু রাকেশ আস্তানাসহ আরো দু’জন বিদেশী বন্ধু উপস্থিত ছিল। তবে দুদকের হটলাইনে কল রিসিভকারী প্রথমে যখন অভিযোগ নিচ্ছিলেন ঠিক সেই মুহূর্তে জয়ের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে শেষের দিকে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে কলটি কেটে দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের মে মাসে আমেরিকাভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্ট্রিগ্রিটি -জিএফআই’ তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘গত একদশকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ছয় লাখ কোটি টাকা’। দেশের ব্যাংকগুলো পরিণত হয়েছে ব্যাংক ডাকাতদের নিরাপদ অর্থলুটের কেন্দ্রে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের অভিমত, ব্যাংকিং খাতের লুটেরাদের সঙ্গে সরাসরি শেখ হাসিনা-শেখ রেহানা এবং তাদের পুত্র পরিজনদের যোগসাজশ রয়েছে।

এসব কারণে কোনো ঘটনায় বিচার হয়না। এর প্রমান, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যাবহার করে ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের আটশো দশ কোটি টাকা লুট করা হয়। এ লুটের সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পৃক্ততা নাভাবেই উঠে এসেছে। জয়কে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। বরং দেখা যায়, রিজার্ভ ফান্ড লুটপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিতে জয় তার বন্ধু ভারতীয় নাগরিক রাকেশ আস্তানার হাতে ব্যাংকের সাইবার সিকিউরিটি দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। এমনকি রিজার্ভ লুটের ঘটনা শেখ হাসিনা এবং তার ব্যাংক ডাকাত পুত্র জয় ধামাচাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে।

অপরদিকে, ২০১৫ সালে ১৫ মার্চ নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকায় “জয়ের ব্যাংক ব্যালেন্সসহ ৩০০ মিলিয়ন ডলারের তথ্য এফবিআই এবং বিএনপির হাতে” এই শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিজভী আহমেদ নামে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন নাগরিক দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই”র এজেন্টকে ঘুষ দিয়ে এ তথ্য বের করে আনে।

তবে ঘুষ দেয়ার বিষয়টি বেআইনি বিধায় ঘুষ লেনদেনের অপরাধে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান নাগরিক রিজভী আহমেদ এবং এফবিআই’র সংশ্লিষ্ট এজেন্টের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালত আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়। তবে আদালতে উপস্থাপিত এফবিআই’র নথিতে জয়ের ব্যাংকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য আদালত মিথ্যা কিংবা ভিত্তিহীন বলেনি। সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই’র তালিকাভুক্ত সন্দেহভাজন আসামি। জয়ের বিরুদ্ধে এফবিআই দপ্তরে ফাইল রয়েছে কিন্তূ শেখ হাসিনার ব্যাংক ডাকাত সরকার কিংবা দুদক সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করছেনা।

সূত্র : ডেইলি বিডি টাইমস ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1210 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com