‘গ্রেনেড হামলার রাতেই তাজউদ্দিনসহ অন্যদের বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়’

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৮ ৩:০২ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ভয়াবহ নিষ্ঠুর হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, সেই সময়ের ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিরোধী দল চিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিল। গ্রেনেড হামলার পর যখন জানতে পারে যে, আমি বেঁচে আছি, তখন সেই রাতেই হামলাকারী তাজউদ্দিনসহ আরও কয়েকজনকে ক্ষমতাসীনরা দেশ থেকে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এই হামলায় মহিলা লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

বুধবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও গ্রেনেড হামলায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে প্রাণে বেঁচে যাওয়া বেগম নাসিমা ফেরদৌসীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ভয়াবহ এই হামলা মামলাটি মোট ২২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রেনেড হামলার আহত শত শত দলীয় নেতা-কর্মী দু:সহ সেই স্মৃতি আজও শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, এই মামলাটি বর্তমানে রায় দেয়ার পূর্ববর্তী ধাপ অর্থাৎ যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫২ জন আসামির মধ্যে ১৮ জন আসামির যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট আসামিদের যুক্তিতর্ক শেষ হলেই এই মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার একজন উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু ও তার ভাই মোহাম্মদ তাজউদ্দিন এই মামলার অন্যতম আসামি। গ্রেনেড হামলা চলাকালে টিয়ার সেল ছুড়ে হামলাকারীদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করা হয় এবং গ্রেনেড হামলার পর যখন জানতে পারে আমি বেঁচে আছি, তখন সেই রাতেই তাজউদ্দিনসহ আরো কয়েকজনকে দেশ থেকে বিদেশে যাবার সুযোগ করে দেয় হয়। যেখানে গ্রেনেড হামলা হয় সেই স্থানের সকল আলামত পরদিনই সরিয়ে ফেলা হয় ও রাস্তা ধুয়ে ফেলে অন্যান্য আলামতও নষ্ট করা হয়।

গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন গ্রেনেড হামলা মামলার প্রকৃত আসামিদের আড়াল করার জন্য তথাকথিত জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে চার্জশীট দাখিল করে। পরবর্তীতে জানা যায়, জজ মিয়াকে এই নাটকে অংশ নেয়ার জন্য তাকে বেশ কিছুদিন মাসিক ভাতাও দেয়া হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে যেনতেনভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতাগ্রহণের পর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল আসামিদের অন্তর্ভুক্ত করে চার্জশীট প্রদান করে এবং ২০১৪ সাল থেকে আরো ১৬৪ জন সাক্ষীরসাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এভাবে মোট ২২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে মামলাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1102 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com