গঠিত হচ্ছে মানি লন্ডারিং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল

নভেম্বর ১৮, ২০১৭ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ‘মানি লন্ডারিং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রত্যেক বিভাগে একটি করে আটটি ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হবে। বিশেষ এ ট্রাইব্যুনাল পরিচালনার জন্য নতুন করে ৭২টি পদ সৃষ্টির জন্য আইন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

‘মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ’ সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। পরে তা বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তা গঠন হতে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘পাচার করা অর্থ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ভিন্ন ট্রাইব্যুনাল করতে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তবে আইন মন্ত্রণালয় থেকে লোকবল চেয়ে প্রস্তাব এখনও আমার নজরে আসেনি। এলে আমরা দেখব কী করা যায়। আমরা চাই এ ধরনের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল যেন গঠন করা হয়।’

সূত্র মতে, মানি লন্ডারিং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল সৃষ্টি করা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি ৩১ অক্টোবর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে। সেখান থেকে ১ নভেম্বর প্রস্তাবটি পাঠানো হয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে।

আইন ও বিচার বিভাগের প্রস্তাবে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২’-এর ৯(২) ধারার বিধান মতে এ অপরাধের বিচারের জন্য বিশেষ জজ নিয়োগ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর ২৮(১) ধারার বিধান মতে প্রয়োজনীয় এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে আটটি মানি লন্ডারিং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল এবং তা পরিচালনার জন্য পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ১৮ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নেয়া পদক্ষেপ স্বল্প সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী।

সূত্র মতে, বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ হচ্ছে না। বিভিন্ন কৌশলে টাকা পাচার হচ্ছে। পাশাপাশি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে অর্থ। এসব ঘটনার মধ্যে কিছু ঘটনায় মামলা হয়েছে, যা আদালতে বিচারাধীন। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

অর্থ পাচার প্রতিরোধসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা এশীয় প্যাসিফিক গ্রুপ (এপিজি) সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অর্থ পাচারের প্রায় চারশ’ ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বাংলাদেশে। এসবের সঙ্গে ১৪০ কোটি টাকা জড়িত। অবশ্য তদন্ত শেষে মামলা হয়েছে ২৮৪টি। এর মধ্যে মাত্র ৪৩টি মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে।

২০১৫ সালে ২৬টি অর্থ পাচারের ঘটনা তদন্ত শেষে মামলা করা হয়েছে ১১টি। অর্থ পাচারের ঘটনায় ২০১৪ সালে ৮৯টি ঘটনা তদন্ত করে ২০টি মামলা করা হয়। একইভাবে ২০১৩ সালে ৮১টি ঘটনার ব্যাপারে অনুসন্ধান করা হলেও মামলা হয়েছে ৬৬টি। ২০১২ সালে তদন্ত করা হয় ৮০ ঘটনা। তদন্ত শেষে মামলা করা হয়েছে ৩২টি। ২০১১ সালে ৬৭টি ঘটনা অনুসন্ধানের পর ৩৫টি, ২০১০ সালে ৫৬টি ঘটনার তদন্ত শেষে ১৯টি এবং ২০০৯ সালে মামলা হয়েছে ২টি।

সূত্র মতে, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন মামলাগুলো দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করতে নিন্মআদালত থেকে মামলায় খালাস পাওয়া আসামির নথি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে দ্রুত জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস এবং আইন মন্ত্রণালয়সহ সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হয় জাতীয় সমন্বয় কমিটি থেকে। পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা ২০১৩-এর খসড়া অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে পাঠানো হয়। অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমঝোতা স্মারক স্বল্প সময়ের মধ্যে সই করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা যায়, টাকা পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ সরবরাহ বন্ধ করতে সরকারের কৌশলপত্রের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অগ্রগতি কম হয়েছে। কৌশলপত্র দ্রুত বাস্তবায়ন করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), অ্যাটর্নি জেনারেল অব বাংলাদেশ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, এনজিওবিষয়ক ব্যুরো, সিআইডি, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, সমাজসেবা অধিদফতর, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি এবং যৌথ মূলধনী কোম্পানি ফার্মগুলোকে তাগিদ দেয়া হয়েছে।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1046 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com