ক্যান্সার রোগীর ছড়াছড়ি

এপ্রিল ৬, ২০১৮ ৫:০৬ অপরাহ্ণ

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিচতলায় বহির্বিভাগে বসে কিছুক্ষণ পর পর ‘উহ্ আহ্’ করছিলেন মধ্যবয়সী সুখলতা রানী। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডাক্তর কইল্ মোর মুখত নাকি ক্যান্সার ধরিছ।’ অল্প দূরে আরেক চেয়ারে বসে সামনের টিভি পর্দার দিকে তাকিয়ে ছিল ৯ বছরের শিশু মুক্তার। ভোলার লালমোহন থেকে বাবার সঙ্গে আসা মুক্তারের হাতে এক প্যাকেট কাগজপত্র। রোগী কে—জিজ্ঞেস করতেই শিশুটির জবাব, ‘আমার চোহে ক্যান্সার অইছে। জন্মেরতনেই নাহি আমি ক্যান্সার বানাইছি। চোহে মাঝেমধ্যে ব্যথা করে আর কামড়ায়। কিন্তু দ্যাখতে কোনো অসুবিধা নাই।’

ওই ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোয়াররফ হোসেন জানান, প্রতিদিন এই হাসপাতালে নিশ্চিত ক্যান্সার রোগী হিসেবে ভর্তি থাকে কমপক্ষে ৩০০ জন। আর বহির্বিভাগে আরো প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষ আসে, যাদের মধ্যেও বড় অংশই ক্যান্সারের রোগী। ২০১২ সালেও যেখানে এই হাসপাতালে বহির্বিভাগে বছরে রোগী ছিল ৫৯ হাজার, সেখানে এখন সেই সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে। তিনি আরো জানান, দেশে এখন প্রায় ১২ লাখ ক্যান্সারের রোগী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ লোক নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। আর ক্যান্সারে বছরে মারা যায় প্রায় দেড় লাখ রোগী। যাদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বছরে ৫০ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়। আড়ালে থেকে যায় আরো প্রায় আড়াই লাখ রোগী।

অধ্যাপক মোয়াররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, দেশে নারীদের জরায়ুর ক্যান্সার। অনেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও লজ্জায় ডাক্তারের কাছে আসতে চায় না। অনেকে নিজের রোগের বিষয়টি পরিবারের অন্যদের কাছে বলতেও দ্বিধা করে। এ ছাড়া গ্রামে বসবাসকারী নারীদের ক্ষেত্রে পুরুষরাও চিকিৎসায় স্ত্রীর রোগের চিকিৎসা করাতে খুব একটা আগ্রহী হয় না। ফলে অনেকে জরায়ু বা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও নীরবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়।’

দেশে ক্যান্সার বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোল্লা  ওবায়দুল্লাহ বাকী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে দেশে ক্যান্সারের প্রকোপ বা প্রবণতার পার্থক্য রয়েছে। আমাদের দেশে যে ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি অন্য দেশে হয়তো সেই ক্যান্সারের প্রকোপ খুবই কম। এটা হয়ে থাকে দেশের ভেতরে মানুষের জীবনযাপন, খাদ্য ও পরিবেশের কারণে। বিশেষ করে আমাদের দেশে যতগুলো ক্যান্সার দেখা যায়, তার বেশির ভাগের জন্যই কোনো না কোনোভাবে তামাককে দায়ী করা যায়। আর বাকিগুলো হচ্ছে খাদ্যে রাসায়নিক ও পরিবেশদূষণের মাধ্যমে। এই কারণগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলেই ক্যান্সারও বাড়ছে।’

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1073 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com