কনকনে বাতাস ও কুয়াশায় বেড়েছে শীত

জানুয়ারি ১২, ২০১৮ ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীবাসী বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই থমকে যায়। ঘন কুয়াশার সঙ্গে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস। অনেকটা জমে যাওয়া অবস্থা। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেটি এমনকি শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেও পড়ে না। তাহলে এতো ঠাণ্ডা লাগছিল কেন? উত্তর হলো- আগের দিন অর্থাৎ বুধবার সকালে ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ১। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা প্রায় ১ ডিগ্রি কমে গিয়েছিল। এর সঙ্গে ছিল বাতাস ও কুয়াশা। বাতাস মানুষের ঠাণ্ডার অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়। আর ঘন কুয়াশার কারণে সকালে যতটা সূর্যের তাপ পাওয়ার কথা ছিল তা পাওয়া যায়নি। সবমিলিয়ে রাজধানীবাসী উপহার পায় একটি শীতকাতর সকাল। ঠিকঠাক বলতে গেলে গোটা দিনই একই অবস্থায় গেছে। দুপুরে সূর্যের দেখা মিললেও সম্ভবত কুয়াশার কারণে তার তেমন তেজ ছিল না। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস কমবেশি সারাদিনই ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শ্রীমঙ্গল, কুমিল্লা, সীতাকুণ্ড, ফেনী ও হাতিয়া অঞ্চলসহ রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা উত্তর পশ্চিমাংশে দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্তব্যরত পূর্বাভাস কর্মকর্তা গত রাতে বলেন, গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বাতাস ও কুয়াশার কারণে সর্বত্রই মানুষ ঠাণ্ডা বেশি অনুভব করেছে।
শৈত্যপ্রবাহে সারাদেশের মতো রাজধানীতেও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েক দিনের তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ। প্রচণ্ড ঠাণ্ডাতেও জীবিকার তাগিদে তাদের ছুটে চলা থেমে নেই। কাওরান বাজারের সবজির আড়তে সারারাতই থাকে ব্যস্ততা। জীবনের তাগিদে হাড় কাঁপানো শীতেও কাজ করতে হয় তাদের। এছাড়া ছিন্নমূল মানুষদের অনেকেরই শীতের পোশাকের অভাবে কাটে নির্ঘুম রাত। খুব ভোরে শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজে যেতেও সমস্যা হচ্ছে।
আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর থেকে জানা গেছে, অল্প অল্প করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও শীতের কাঁপন রয়েই গেছে। দেশের দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরায় তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গায় ৭ দশমিক ৫, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ৮ দশমিক ৭, বিভাগীয় শহর খুলনার তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এখনো মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রংপুরে ৭ দশমিক ২, দিনাজপুরে ৭ দশমিক ৭, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মধ্যে ময়মনসিংহে ৯, চট্টগ্রামে ১২, সিলেটে ১১ দশমিক ৭, রাজশাহীতে ৭ দশমিক ৫ এবং বরিশালে তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে টানা শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। শীতে কাতর মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে কষ্টকর সময় পার করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। টানা শৈত্যপ্রবাহে বোরো বীজতলা নিয়ে আশংকায় আছে কৃষকরা। এভাবে আরো কয়েকদিন চলতে থাকলে বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আব্দুর রশীদ।
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার পশ্চিমের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা বাড়ার পরেও শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়। জেলাগুলো হচ্ছে, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা। সকাল থেকেই আকাশ ছিল কুয়াশায় ঢাকা। সেই সঙ্গে উত্তর দিক থেকে বইতে থাকে কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া।
সকাল থেকে রাস্তাঘাটে লোক চলাচল কম ছিল। শহর গ্রামে শীতের কামড় থেকে রক্ষা পেতে মানুষকে আগুন পোহাতে দেখা যায়। শীতের কারণে চাষিরা মাঠে কাজে যেতে পারছে না।  এদিকে শীতজনিত রোগ ব্যাধির প্রকোপ দেখা দিয়েছে। শিশুরা বেশি নিউমোনিয়াসহ অন্যরা ঠাণ্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জে তীব্র শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। খেটে খাওয়া মানুষ কাজে বের হতে পারছে না। একটু উষ্ণতা পেতে সাধারণ মানুষ আগুন জ্বেলে তাপ নিচ্ছেন। রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শীত জনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু কুয়াশার কারণে শীত বেশি অনুভব হচ্ছে।
যশোর অফিস জানায়, প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে।
রংপুর প্রতিনিধি জানান, রংপুরে অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় খেটে খাওয়া মানুষ ও দিনমজুর মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মধ্য দুপুরে রোদ দেখা দিলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ও বিকালে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষ।
 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1031 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com