এ কালের ‘ডাইনি’ মেয়েরা

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭ ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ

আনা:

আজকালকার মেয়েগুলো খুব খারাপ হয়ে গেছে; আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। নিজেকে ছাড়া আর নিজের সংসারটুকু ছাড়া আর কিছুই বুঝতে চায় না। আর সংসার ব্যাপারটা হয়ে গেছে তাদের কাছে নিজের, নিজের স্বামী আর নিজের সন্তান। নিজ মানে তাদের কাছে এই এইটুকুই। নিজের শ্বশুর, নিজের শাশুড়ি, নিজের দেবর, নিজের ননদ এই বেলায় আর নিজের মনে হয় না! এরা কি বানের জলে ভেসে এসেছে?

এই যে স্বামী বস্তুটি, এটিই বা এলো কোত্থেকে? বস্তুটি কী আকাশ থেকে ধপাস করে পড়েছে যে তাকে নিয়ে নিরিবিলি একটা সংসার শুরু করে দিলাম আর হয়ে গেলো। মেয়েদের বোঝা উচিৎ, এই যে পুরুষটিকে সে আজকে নিজের করে পেয়েছে তার নিজের একটি পরিবার আছে, বাবা-মা ভাই-বোন আছে। বিয়ে করে এতোদিনের পারিবারিক একটি বন্ধনকে ছিন্ন করে বউ-বাচ্চা নিয়ে আলাদা একটা সংসার সাজানোর স্বপ্ন দেখা ভীষণ অন্যায়।

বোঝা উচিৎ এই পুরুষটি একটি বাবার ঔরসে একজন মায়ের গর্ভে জন্মেছে। সেই মা তাকে দশ মাস অনেক কষ্ট করে ছোট্ট একটি ভ্রুণকে গর্ভে বড় করেছেন, অবর্ণনীয় প্রসব বেদনাকে স্বীকার করে তাকে ভূমিষ্ট করেছেন। সারাটা জীবন তিলতিল করে ছোট্ট ছানা-পোনাটিকে হাতে-পায়ে, মেধায়-মননে পরিপূর্ণ একজন মানুষ করে তুলেছেন। মেয়েগুলো ভুলে যায় যে ছেলেটি একদিন ধপাস করে আকাশ থেকে পড়েনি।

মেয়েদের ব্যাপারটা আলাদা। কেউ কোনোদিন দেখেছেন নাকি এমন কথা, নাকি কেউ কোনোদিন শুনেছেন যে কোনো মেয়ে বাবার ঔরসে বা মাতৃগর্ভে জন্ম নিয়েছে? শুনেছেন কেউ মেয়েরা কোনো পরিবারে বড় হয়েছে? মেয়েরা সাধারণত আসে বানের জলে ভেসে, নয় আকাশ থেকে টুপ করে পড়ে। সুতরাং মেয়েদেরকে বিয়ের পর বাবার ঘর ছাড়তে হবে এটাই স্বাভাবিক, মেয়েরা আকাশ থেকে পড়ছেই তো অন্যের ঘর সাজাবার জন্য। সেই মেয়েরা আবার আজকাল স্বাধীন, স্বতন্ত্রভাবে নিজের মতো করে একটা সংসার গুছানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে!

তারা এটা ভাবে না যে এই কচি খোকাটাকে বাবা-মার কাছ থেকে আলাদা করে ফেললে সে কী করে বাঁচবে! সে যার স্বামীই হোক না কেন, মায়ের কাছে তো সে খোকাই, নাকি? মেয়েদের কথা আলাদা, মেয়েরা জন্ম থেকেই ম্যাচিওরড। তাদের বাবা-মায়ের প্রয়োজন হয় না; ইনফ্যাক্ট যেকোনো বাবা-মায়ের ঘরে জন্মেইনি, তার আবার বাবা-মা প্রয়োজন হবেই বা কেন!

যে খোকা ছোটবেলা থেকে তিল তিল করে মায়ের সংসারটা সাজাতে দেখেছে, যদি কেউ স্বার্থপরের মতো নিজের সংসারের স্বপ্নের মোহে সেই খোকাকে মায়ের সেই সাজানো সংসারের মায়া ছেড়ে গিয়ে তার জন্য একটা সংসার গুছিয়ে দিতে বলে, সেটা কি পুরুষের ওপর নির্যাতনের মধ্যে পড়ে না? নাকি নির্যাতন শব্দটা শুধু মেয়েদের জন্য বরাদ্দ! যে মাকে সারাটা জীবন খোকা নিগৃহীত হতে দেখেছে, সেই মা আজকে যদি পরের বাড়ির মেয়েকে এবেলা অবেলা দুটো করে খোঁচা মেরে তাঁর নিজের মনের জ্বালা একটুও কমাতে পারে, তাতে খোকা কী করতে পারে! এটাতো মেয়েদের জনম জনমের নিয়তি, এই নিয়তিকে যে মেনে নিতে পারবে না সে কেমন মেয়ে? কী তার পারিবারিক শিক্ষা?!

আজকাল মেয়েরা বড় বেশি সম-অধিকার চাইতে শুরু করেছে! দু’কলম লেখাপড়া করে খুব বাড় বেড়েছে! আরে বাবা, সম-অধিকার তো পাচ্ছিস। তোদের এখন আমরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে দিচ্ছি, চাকরি-বাকরি করতে দিচ্ছি, সংসারে সমান সমান খরচ করারও অধিকার পাচ্ছিস। ইন্টারকোর্সেও এক্টিভ হচ্ছিস। তাও দিচ্ছি তো; দিচ্ছি না? আর কী চাই! সংসারে সমান খরচ করছিস বলে কি এখন সব সিদ্ধান্তেও অংশ নিতে চাস নাকি! এটা আদার বেপারির জাহাজের খবর নিতে চাওয়া হয়ে গেলো না?

মেয়েগুলো দিনকে দিন হাড়ে হাড়ে বজ্জাত, বদমাশ হয়ে উঠছে। মাঝে মাঝে মনে হয় মেয়েরা হচ্ছে বানরের জাত, একটু লাই পেলেই টুপ করে মাথায় উঠে বসে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই মেয়েগুলোকে লেখা-পড়া শেখানোতেই হয়েছে যত বিপদ। আগে যেরকম ছিলি থাকতি, হেঁসেলে নুন-তেলের ছিটায় জনম পার করতি, সেই ভাল ছিলো। একটু আস্কারা পেয়েছিস, কোথায় শোকর গুজার করে দিন পার করবি, তা না, দিনকে দিন ডাইনি হয়ে উঠছিস!!

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1195 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com