এর নাম হইল হাসিনা ও আওয়ামী লীগ : ওয়ালিউল্লাহ নোমান

মার্চ ১২, ২০১৮ ২:৩১ অপরাহ্ণ

:: বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ও কুমিল্লার আদালতে হত্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা

২০ দলীয় জোট নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট বিভাগ। জামিনের আদেশের লিখিত আগেশ ইস্যু হবে। সেটা যাবে বিচারিক আদালতে। সেখান থেকে জামিননামা যাবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। তারপর শুরু হবে মুক্তির প্রক্রিয়া। সরকারি কোন কুটচাল না থাকলে প্রক্রিয়া গুলো শেষে শীঘ্রই তিনি মুক্তি পাবেন, ইনশাল্লাহ।

সবাই যখন মুক্তি পাবে এ উল্লাসে লিপ্ত তখনই খবর এল কুমিল্লার আদলত ই্সু্্য করেছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। বুঝলেন কিছু আওয়ামী লীগ কারে কায়!!! শ্যোন এরেষ্ট দেখায় নাই। গ্রেফতারি পরোয়ানা ইসু্্য হয়েছে আদালত থেকে। সুতরাং বিদেশীরা কিছু জিগাইলে কইবে আমাদের আদালত ‘স্বাধীন’! তাও আবার বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ৮ জন মানুষ হত্যার মামলায় হুকুমের আসামী!

এদিকে হাইকোর্টে জামিন মঞ্জুরের বিরোধীতা করেছিল সরকার পক্ষ। আদালত তখন তাদের নির্দেশ দিয়েছে পেপারবুক তৈরি করার জন্য। একই সাথে পেপারবুক তৈরি করে চার মাসের মধ্যেই আপিলের শুনানী নিষ্পত্তি করার জন্য তাগিদ দিয়েছে আদালত।

অর্থাৎ হাইকোর্ট বিভাগে কোন আপিল মামলা শুনানী করতে পুরো নথি পেপারবুক আকারে তৈরি করতে হয়। মামলার নথির যাবতীয় তথ্য টাইপ করে এক জায়গায় লিপিবদ্ধ করা হয়। এটাকে বলা হয় পেপারবুক। বেগম খালেদা জিয়ার এ মামলায় নথি হচ্ছে ৫হাজার ৩২৮ পৃষ্টা। এসব তথ্য হুবহু লিপিবদ্ধ করে একজায়গায় পেপারবুক আকারে তৈরি করতে হবে। পেপারবুক তৈরি হলেই আপিল শুনানী শুরু হয়। সাধারণত রেজিস্টার দফতরের সংশ্লিষ্ট শাখা পেপারবুক তৈরি করে। এ মামলার পেপারবুক তৈরির দায়িত্ব এখণ হাইকোর্ট বিভাগের রেজিষ্ট্রর দফতরের সংশ্লিষ্ট শাখার।

মৌখিক আদেশে পেপারবুক তৈরি ও চারমাসের মধ্যেই আপিল শুনানীর কথা বলা হয়েছে। এখন লিখিত আদেশে কি বলা হয় সেটাও দেখা দরকার।

কি হতে পারে পেপারবুক তৈরির পর।

হাইকোর্ট বিভাগ চার মাসের মধ্যেই পুরো অপিল শুনানীর তাগিদ দিয়েছে। তাই সরকার চাইলে দ্রুত পেপারবুক তৈরি হবে। চারমাস পর জামিন বৃদ্ধির জন্য আসামী পক্ষ আবেদন করবে। তখন আদালত বলবে পেপারবুক তৈর আছে। অমুক তারিখ থেকে শুনানী শুরু হবে। অথবা পেপারবুক ১৫-৩০ দিনের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে দ্রুত গতিতে। সরকার পক্ষ তখন গিয়ে অবেদন করবে আদালতে। বলা হবে, পেপারবুক তৈরি হয়ে গেছে। আমরা এখন পুরো মামলা শুনানী করতে চাই। আদালত তখন একটা শুনানীর তারিখ নির্ধারন করে দেবেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আপিলের শুনানী শুরু হয়ে যেতে পারে তখন। সবকিছুই নির্ভর করছে পেপারবুক তৈরি ও সরকারের ইচ্ছার উপর।

এদিকে ইতোমধ্যে জিয়া চেরিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তাকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট দেওয়া রয়েছে। এটা প্রত্যাহার করাতে হবে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে। পুরাতন মামলায় আদালতে হাজির করানোর জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) ইস্যুর মাধ্যমে কারা কৃতপক্ষকে অবহিত করা হয়। শোনা যায় কুমিল্লার একটি মামলায়ও প্রোডাকশন ওয়োরেন্ট রয়েছে। এ গুলো প্রত্যাহার না হলে কারা কৃতপক্ষ মুক্তি দিতে পারবে না।

আশা করছি আইনজীবীরা নিশ্চয়ই এসব বিষয় ভাল করেই অবগত রয়েছেন। তারা এসব ওয়ারেন্ট প্রত্যাহারের জন্য ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছেন বলেই আমার বিশ্বাস।

এখন শুধু অপেক্ষার পালা হাইকোর্ট থেকে লিখিত আদেশ কখন যাবে বিচারিক আদালতে। সেখান থেকে আবার জামিননামা কখন যাবে কারা কতৃপক্ষের কাছে। একই সাথে কোন প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট থাকলে সেটাও এর মধ্যে প্রত্যাহার হয়ে যাবে। তখনই মুক্তির পথে আর বাঁধা থাকবে না। এ প্রক্রিয়া গুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত শুধু অপেক্ষা ছাড়া আর কোন গতি নাই।

এই পোষ্ট লেখা অবস্থায়ই খবর পেলাম কুমল্লিার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সুতরাং এখন কুমিল্লার মামলায় জামিন আবেদন শুরু করতে হবে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত থেকে। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন না মঞ্জুর করবেন। এই আদেশের সার্টিফায়েড কপি লাগবে। সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর জামিনের আবেদন করতে হবে কুমিল্লা জেলা জজকোর্টে। সেখানে জামিনের আবেদন শুনানীর জন্য একটা তারিখ নির্ধারন হবে। সেই তারিখে জামিনের আবেদন শুনানী হবে। তারপর আদেশ হবে। আদেশে জামিন না মঞ্জুরে হলে অাদেশের সার্টিফায়েড কপি লাগবে। সেই কপি পাওয়ার পর জামিনের আবেদন করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগে। তখন আবার এখানে জামিন শুনানীর জন্য তালিকায় আসবে। শুনানী হবে। আদেশের জন্য দিন ধার্য্য হবে। জামিন মঞ্জুর বলে সেটা যাবে কুমিল্লার আদালতে। সেখান থেকে আসবে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে। তখন মুক্তি পাওয়ার পথ খোলা হবে। সুতরাং এ প্রক্রিয়া গুলো সম্পান্ন করতে কতদিন লাগতে পারে সবাই নিজেরাই একটু অনুমান করেন দেখতে পারেন।

লেখক : দৈনিক আমার দেশের বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1139 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com