এরশাদের সমাবেশ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি কেন: কাদের

মার্চ ২৫, ২০১৮ ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ

:: ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের দিনটিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাবেক সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জনসভা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করার আহ্বান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘বৈধ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে গতকাল (শনিবার) জাতীয় পার্টি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করেছিল। এ দেশে এ সকল বিষয় ‍নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে লাভ নেই।’১৯৮২ সালে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনা শাসন জারি করেন সে সময়ের সেনা প্রধান এরশাদ। ৩৬ বছর পর এই দিনটি ‘উদযাপনে’ শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ হয় জাতীয় পার্টির।

এই জনসভায় এরশাদ তিন যুগ আগে তার ক্ষমতা দখলের বিষয়ে কিছু না বললেও আগামী নির্বাচনে ভোটে জিতে ক্ষমতায় ফেরার আশাবাদের কথা বলেন।রবিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির বিশেষ যাত্রীসেবা ‘উষা সার্ভিস’, ‘উত্তরা সার্কুলার সার্ভিস’ ও ‘অফিস যাত্রী সার্ভিস’ এর উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। এরপর এরশাদের জনসভা নিয়ে তার কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা।অবৈধ ক্ষমতা দখলের দিন জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ করে উদযাপনকে কীভাবে দেখছেন-জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘তারা তো নিবন্ধিত, বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

এ দেশে এ সকল বিষয় ‍নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে লাভ নেই।’‘স্বৈরাচারী শক্তি হিসেবে আমরা যাকে বলি, পতনের কয়েক মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনে এরশাদ সাহেব পাঁচ সিটে (১৯৯১ সালের নির্বাচনে রংপুরের পাঁচটি আসনে জিতেছিলেন এরশাদ) বিজয়ী হয়েছিলেন।’‘তারা তো নির্বাচন করে আসছে, এখন সংসদে বিরোধী দল হিসেবে আছে। বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের সভা-সমাবেশ নতুন কিছু নয়। এখন সোহরাওয়ার্দী করার পর কেন প্রশ্ন আসবে?’আওয়ামী লীগ তো এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বে ছিল। এই দৃষ্টিকোণ থেকে শনিবারের সমাবেশ খারাপ লেগেছিল কি না-এমন প্রশ্নও ছিল গণমাধ্যম কর্মীদের। জবাবে কাদের বলেন, ‘এ দেশের আরও খারাপ লাগার বিষয় আছে। সেগুলোতো হজম করে যাচ্ছি।’

বাংলাদেশ একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অধীনে এবং এখানে গণতন্ত্রের নূন্যতম মানদণ্ড নেই বলে জার্মান গবেষণা সংস্থা বেরটেলসম্যান স্টিফটুং এর প্রতিবেদনের বিষয়েও কাদেরের মন্তব্য জানতে চান গণমাধ্যম কর্মীরা।জবাব আসে, ‘আমাদের দলের সিনিয়র সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও এইচ টি ইমাম সাহেব এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এখন আমি নতুন করে একই বক্তব্য রাখতে হবে, এটার তো কোনো মানেই নেই।’‘তবে আমি এটা বুঝি যেই মুহূর্তে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক ধাপ অতিক্রমের স্বীকৃতি দিল, সেই সময়ে এ রিপোর্ট কেন, এটা আমার প্রশ্ন।’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘২৫ মার্চ যারা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করবে না, তারা পাকিস্তানের পারপার্স সার্ভ করছে।’‘পাকিস্তান এ গণহত্যার দায় স্বীকার করে নাই, ক্ষমা চায় নাই, অনুতাপ প্রকাশ করেনি। সেই পাকিস্তানের বন্ধুরাই এ দিবস পালন করবে না, সেটাই স্বাভাবিক।’‘এদেশে যারা সাম্প্রদায়িক এবং জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক তারা পাকিস্তানের বন্ধু। যারা এ গণহত্যা দিবস পালন করছে না, তারা পাকিস্তানের বন্ধু, দোসর।’

সূত্র : ঢাকা টাইমস

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1096 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com