আসলে কি হচ্ছে দেশে?

অক্টোবর ৪, ২০১৭ ৬:৫১ অপরাহ্ণ

:: স্বাক্ষর জাল করে জোর করে ছুটিতে পাঠানো প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে ঘটে যাওয়া নাটকীয়তার হিসাবটা দেখি মেলাতে পারি কিনা…

প্রধান বিচারপতি সুরেন বাবু একজন সীকৃত আওয়ামি মনা এবং আওয়ামিলিগের আজকের এই অবস্থানে আসতে উনারও অবদান কম না! সেই উনি হঠাৎ দেশের ষোল কোটি অসহায় মানুষের উদ্ধারকারী হিসেবে আবির্ভুত হলেন, কেনো? উনি কি হঠাৎ সেল্ফ রিয়ালাইজেশন থেকে সিদ্ধান্তে এলেন যে এজাতীকে রক্ষা করতে হবে, এবং একমাত্র কোর্ট ই সেটা পারে! যদি তাই হয় তবে যাদের বিরুদ্ধে উনি অবস্থান নিতে যাচ্ছেন, তাদের সাথে সাপ লুডু খেলার দরকার কি ছিলো! উনি তো সরাসরি একশনে যেতে পারতেন। পর্যবেক্ষণ দিয়ে সরকার কে সতর্ক করবার কারন কি? ব্যাপার টা অনেকটা এরকম যে একটা বিষধর সাপকে খোঁচা দিয়ে বলা, এই আমি তোকে মারতে যাচ্ছি, আমাকে কিছু বলিস না কিন্তু!

ব্যাপারটা মোটেই তা না! উনি হঠাৎ জাতীর ত্রান কর্তা রুপে হাজির হন নি! উনি দাবার গুটি মাত্র! প্রশ্ন হলো তাহলে খেলছে কে? খেলোয়ার একই আছে, যারা এতোদিন খেলেছে, তারাই, সেই দিল্লি এবং ‘র’।! তাহলে প্রশ্ন, এই নতুন ধরনের খেলার দরকার পরলো কেনো হঠাৎ? উত্তর হলো বার্গেইনিং – দরকষাকষি! সামরিক চুক্তি চায় তারা! এবার প্রশ্ন, তাদের অনুগত সরকার, না চাইতেই সব দিয়ে দিয়েছে, তাহলে এটা দিতে সমস্যা কোথায়? দেশ প্রেম থেকে সরকার এটা করছে, তা তো অবশ্যই না। তাহলে? সমস্যা সেনাবাহিনী! যদিও কথিত আছে যে বর্তমান সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি তিনজনে একজন তাদের এজেন্ট, কিন্তু তারপরও ভরসা পাচ্ছেনা, কারন সরকার চরমভাবে অজনপ্রিয় এবং দিল্লির উপর নির্ভরশীল এটা সবাই জানে! একারনে আর্মির ছোট একটা গ্রুপও যদি কু করে বসে, সেটা সফল হবে জনসমর্থনের কারনে। এজন্যেই তাবেদার সরকার সাহস পাচ্ছে না, কিন্তু দিল্লি এসব কিছুই শুনতে রাজী না। একারনেই প্রধান বিচারপতি কে দিয়ে সরকারের সব অপকর্মের পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে এই প্রেসারটা দেয়া হয়। তবে এখানে আরো একটা প্রবলেম হলো, দিল্লির হাতে আওয়ামিলিগ ছাড়া আর কোন বিকল্প অপশন নেই, তাই তারা তাকে ফেলেও দিতে পাচ্ছেনা। পলিসি হলো, প্রেসারে রেখে যতটা সম্ভব তাদের অন্যায় আদায় করে নেয়া! তবে সুরেন বাবুকে দিয়ে তারা আর কি ঘটাতো বা তারা আসলে কতদুর যাচ্ছে এটা আওয়ামিলিগের কাছে পরিষ্কার না! তাই উনি (অবৈধ প্রধানমন্ত্রী) রিস্ক নেননি এই সময়। নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রেখেছেন। আওয়ামিলিগ এটাও ভাবছে যে অন্য কেউ এদের প্রস্তাবে রাজি হলো কিনা! অন্য কেউ মানে অন্য কোন রাজনৈতিক শক্তি বা সামরিক শক্তি। এটাই তাদের ভয়। বিএনপি তাদের এপ্রস্তাবে রাজি হবেনা, এটা তারা জানে, তারপরও শংকা থেকেই যায়! সেকারনে এসব কিছুতে বিএনপি কে জডায়ে তেমন কিছু তারা বলছে না, আবার একেবারে হাল্কা ভাবেও নিচ্ছেনা! সবকিছু মিলিয়ে একটা উলট পালট হতে যাচ্ছে সেটা সেটা ছিলো নিশ্চিত। তবে সুরেন বাবুকে ছুটিতে পাঠিয়ে প্রসেসটা কিছুটা ডিলে হলো। আর্মির মুভম্যান্ট টা নিয়ে এখনও ধোয়াসা কাটছেনা। এই রহস্য তৈরী হয়েছে মূলত ঢাকা সিটি উত্তরের মেয়রের অসুস্থতাজনিত রহস্যজনক আন্তধ্যান থেকে। উনি তো আবার সেনাপ্রধীন বেলাল সাহেবের বড ভাই।
আরো একটা ব্যাপার, চিনের কাছ থেকে সাবমেরিন কিনে হাসিনা সরকার একটা ইংগিত দিয়েছে যে তোমাদের বিকল্প আমাদের হাতে আছে। এটাও দিল্লি ভালোভাবে নেয়নি। কাজেই তারা দেখাতে চাচ্ছে যে, বিকল্প তোমাদের হাতে থাকলে, আমাদের হাতেও তোমাদের বিকল্প আছে।

লেখক : মাহমুদুল খান, কনসালটেন্ট ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 2453 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com