“আর কোনো নির্বাহী আদেশ নয়”- শেখ হাসিনাকে সুপ্রিম কোর্টের বার্তা !

ডিসেম্বর ৮, ২০১৭ ৯:১৩ অপরাহ্ণ

আদালত প্রতিবেদক
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আর কোনো নির্বাহী আদেশ না দিতে বার্তা পাঠিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। গত মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সুপ্রিমকোর্ট হতে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে “এক অতি জরুরী এবং অতি গোপনীয়” ফ্যাক্সবার্তায় এ অনুরোধ করা হয়েছে। ফ্যাক্স বার্তার কপি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে। খবর সর্বোচ্চ আদালত সূত্রের।

সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পূর্নাঙ্গ আপিল বিভাগ গত ২২ আগস্ট ২০১৭ এক সর্বসম্মত রায়ে বর্তমান সংসদের বিনাভোটের ১৫৪ জন সদস্যকে অবৈধ ঘোষণা করেন। জননিরাপত্তার আশংকার উক্ত রায় গণমাধ্যমে প্রকাশের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (গ্যাগ অর্ডার) প্রদান করেন। উক্ত রায়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আরও সাক্ষর করেন বিচারপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোঃ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, এবং বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার।

উক্ত রায় প্রকাশের উপর প্রদত্ত এই গ্যাগ অর্ডার কবে প্রত্যাহার হবে তা নিয়ে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন- ১২০ দিন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি বৃটেন, কানাডা, এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ সংক্রান্ত আইন ও বিধি আনার পরে জানতে পেরেছে যে, গ্যাগ অর্ডারে ১২০ দিন বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়। যেহেতু বাংলাদেশ তথা এই উপমহাদেশ বৃটিশ আইন অনুসরণ করে, বৃটিশ আইনে গ্যাগ অর্ডারের মেয়াদ থাকে ৯০ দিন। ইতোমধ্যে ২২ আগস্টের পরে ৯০ দিন পার হয়ে গেছে, এরপরে বর্তমান সংসদ এবং বর্তমান সরকার দু’টোই সম্পূর্ণ অবৈধ। গ্যাগ অর্ডারের মেয়াদ নিয়ে প্রেসিডেন্টকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইন মন্ত্রী ও এটর্নী জেনারেল। এরপরেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে ফ্যাক্স করে জানানো হয়, আর যেনো কোনো নির্বাহী আদেশ না দেয়া হয়।

দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সহ অন্যান্য বিচারপতিরা গতকাল প্রেসিডেন্টকে জানান যে, ইতোমধ্যে সংবিধান লংঘন করা হয়েছে এবং তা অব্যাহত আছে, যা রাষ্ট্রপতি কতৃক সংবিধান ও শপথ লংঘনের সামিল। রাষ্ট্রপতি কোনো দলের নন, বরং তিনি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর করা রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব। তা না করলে সংবিধান লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে বিচার বিভাগ আইন অনুযায়ী কঠোর হতে বাধ্য।

সূত্র : বিডি পলিটিকো

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 4980 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com