আমেরিকানরা কেন অস্ত্র বহন করে ?

অক্টোবর ৪, ২০১৭ ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

১। ৪৫০ কোটি ডলারের ভারতিয় ক্রেডিট লাইনের প্রজেক্ট গুলো দেখলাম। পায়রা বন্দরের সাঙ্ক কস্ট বাদ দিলে – বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার , বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত দ্বৈতগেজ রেলপথ নির্মাণ থেকে চট্টগ্রামে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ সহ অনেক গুলো ভালো প্রকল্প।

কিন্ত যে কোন দেশ বা ব্যাঙ্কের সাথে এই ধরনের বড় চুক্তি দেখলে আমার বার বার মনে পরে, এই ধরনের এসেন্সিয়াল প্রজেক্ট গুলোই যদি বিদেশী ঋণের টাকা দিয়ে করতে হয় তবে আমাদের এডিপির টাকা কোথায় যায় ?

আজকে থেকে মাত্র দশ বছর আগেও আমাদের সরকারের সম্পূর্ণ বাজেট ছিল, ৫৫ হাজার কোটি টাকা। সেই খান থেকে বাজেট ৪ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। যার মধ্যে এডিপি গত বছর এক লাখ কোটি টাকা ছারায়ছে এই বছর নাকি সেইটা দেড় লক্ষ কোটি টাকা হবে।

আমাদের প্রস্ন করতে হবে এই লক্ষ কোটি টাকা কই যায় ? এই লক্ষ কোটি টাকার এডিপি যদি আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির নিদর্শন হয় তবে, আমাদেরকে আবার ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে কেন ?

স্বাধীনতার পরে সব গুলো সরকার মিলে যে ঋণ নিয়েছে মাত্র কয়েক বছরে একটা অনির্বাচিত অস্বচ্ছ পরিষ্কার ভাবে দুর্নীতিতে ধরা পরা সুইস ব্যাঙ্কে তাকা পাচারকারী মিথ্যাচারী সরকার তার সব রেকর্ড ভেঙ্গে ঋণ নিচ্ছে।বাজেটে ইতোমধ্যেই ঋণের সুদ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত হিসেবে এসেছে। এই ভাবে লাগাম ছাড়া ঋণ নিলে আগামী বছর গুলোতে কি হবে?

এক দিকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ঋণ এবং আরেক দিকে দেশের জনগণের মাথায় বন্দুক ধরে ট্যাক্স আদায় করে টাকায় প্রজেক্টের নামে লুট।

একটা মাফিয়াতন্ত্রের হাতে এইটা বিশ্বের সব চেয়ে বড় একটা স্ক্যাম যেইটার সাথে হলমার্ক এবং শেয়ার মার্কেট নস্যি। এই দুইয়ের ধাক্কা এবং অভিবাসী স্রমিকের আগমন, অবকাঠামোর দুরবলতা্‌ , নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন না হওয়া, নাজুক জলবায়ুকে সামলাতে অতিরিক্ত খরছ এবং ভেঙ্গে পরা প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতার কারনে আগামী পাচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটা ব্যপক একটা অর্থনৈতিক দুর্যোগের মধ্যে পরবে- এইটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।

ঢাকার মধ্যবিত্তকে তার কম্ফোরট জোন ভেঙ্গে রাস্তায় ভিক্ষা করতে নামাবে সেই দুর্যোগ।

এখনো যারা জিডিপি ইম্মপোরট এক্সপোর্ট ডাটা এবং এনবিআরের রেভেনিউ বৃদ্ধির গল্প দেখিয়ে বাংলাদেশের ম্যাক্রো ইকনোমিক সম্ভাবনার বগল বাজাইতেছে শুধু মাত্র তাদের মুখের হাসি কোথায় যায় সেইটা দেখার জন্যে আমি আনন্দের সাথে সেই দিনের অপেক্ষা করে আছি।

২। মিয়ানমার তার মন্ত্রিকে পাঠিয়েছে এবং সেই মন্ত্রীর সাথে আলোচনায় রোহিঙ্গা ফেরত নেবার আশ্বাসে সরকার যে বিজয় দাবী করছে ঠিক তখন গত কাল বুথিডং শহরে আরো একটা গনহত্যার রিপোর্ট এসেছে। আজকেও হাজার হাজার রোহিঙ্গা ঢুকছে । যে খেলায় আপনি হেরে যাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মার খাচ্ছেন সেই সময় শুধু দুইটা মুখের কথায় বিজয় দাবী করতে হইলে অনেক বড় গরধব হইতে হয়।

৩। তেল গ্যাস বিদ্যুতের গন শুনানি বলে কিছু নাই। এই গনশুনানিটা ইটসেলফ গন বিরোধী। এর উদ্দেশ্যই কুইক রেন্টালের মাধ্যমে সরকারি পান্ডাদের নিরবিচ্ছিন্ন আয় নিশ্চিত করতে যে লুটের প্রকল্প চালু হয়েছে তার দায় জনগণের উপরে চাপিয়ে দেয়ার বৈধতা তৈরি করা এবং তেল গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে জাস্টিফাই করা ।

আওয়ামি লিগ সব সময়েই কাঁচড়া কাজটা অন্যদেরকে নিয়ে করিয়ে নেয়। নিজে ক্লিন থাকে ।

কিন্ত গ্যাস এবং বিদ্যুতের এই প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি এখন নাগরিক এবং বিজনেস উভয়ের উপরেই গলার ফাঁসের মত চেপে বসছে। আরো বারলে কি হবে সেইটা আল্লা জানে।

মাসিক বাজেটে বিদ্যুৎ এখন একটা সিগ্নিফিকেন্ট অংশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে যে সমর্থ মধ্যবিত্তই এখন দরকার না হলে ফ্রিজ বন্ধ রাখে।

অনেক বিজনেসের সাথে আলাপ করে দেখেছি শ্রমিকের খরছের পরে তাদের প্রধান খরছ এখন বিদ্যুতের -যা সামলাতে ফ্যাক্টরি হিমশিম খাচ্ছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, সস্তা শ্রমিকের কম্পিটিভ এডভান্টেজ বাদে আর কোন শিল্পে এখন আমরা বিশ্বের সাথে কম্পিটিভ নই। আগে এর কারন ছিল অবকাঠামো এবং জ্ঞান। এখন নতুন করে আবির্ভূত হচ্ছে বিদ্যুৎ। ফলে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বাদে শিল্পায়নের যে সম্ভাবনা ছিল, যে ইনভেস্টমেন্টের সম্ভাবনা ছিল তা ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চাকুরি মার্কেটে তার প্রভাব এখুনি দেখা যাচ্ছে।

৪। সরকার ভেবেছিল আগামী নির্বাচনের আগে পদ্মা সেতু উন্মোচন করবে। কিন্ত অদক্ষতা, দুর্বল প্রাথমিক পরিকল্পনা, বিভিন্ন ভুলের কারনে সেইটা হচ্ছেনা। এখন নাকি পদ্মার নীচে আরো একটা পদ্মা পাওয়া গ্যাছে। ফলে সেতু উদ্ভোদন করতে না পেরে এখন স্প্যানে স্প্যানে পদ্মা সেতু উন্মোচন হইতছে, প্রতিদিন পেপারে রিপোর্ট দেখি, আজকে প্রথম স্পান দাড়াইছে , কাল পোর্টে এই মেশিন নামছে, স্বপ্নের দরোজা দেখা দিছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
এই মানসিক বিকারগ্রস্ততাকে এরা এখন নরমাল বানায় ফেলছে।

৫। সিনহা সাহেবের সাথে সরকারের দ্বন্দ্বকে সিনহা সাহেবের সাথে আওয়ামি মেশিনারির দন্দ হিসেবে দেখলে হবেনা। সিনহা সাহেব নিজেই আওয়ামি লিগের মেশিন।

বিবেকের তাড়নায় বা কিসের চাপে তিনি দ্বন্দ্বে গ্যাছেন তিনি জানেন কিন্ত আমরা যারা প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার রাষ্ট্রের সব চেয়ে গুরুত্তপুরন কাজ হিসেবে মনে করে ডেভেলপমেন্ট ওরিয়েন্টেড পলিটিক্স করি, আমাদের কাছে সিনহা সাহেবে একটা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানকেই রিপ্রজেন্ট করতেছেন । ফলে ব্যক্তি হিসেবে তিনি কি করেছেন সেইটা আওয়ামি লিগের সাথে দ্বন্দ্বে আমাদের কাছে গুরুত্তপুরন নয়। তাই আমাদের তার পক্ষে থাকতে হবে যেন, রাজনীতির ক্কাছে বিচার বিভাগ পরাজিত না হয়।

৬। এতো গুলো হত্যাকান্ডের পরেও অ্যামেরিকাতে বন্দুকপন্থীরা কিভাবে , মানুষের বন্দুক কেনার স্বাধীনতা ধরে রাখে সেই বিষয়ে শাফকাত রাব্বি অনিক ভাইয়ের লেখা থেকে অনেক কিছু বুঝলাম যা আগে উপলব্ধি করি নাই। পারস্পেক্টিভ বোঝার জায়গা থেকে এইটা সবার জানা জরুরী,

” আমেরিকা হচ্ছে আমার জানা মতে খুব সম্ভবত একমাত্র দেশ যেই খানে খোদ সংবিধানে দেশের সাধারণ নাগরিকদের ছোট খাটো সামরিক বাহিনী বা মিলিশিয়া গঠনের অনুমতি দেয়া আছে।
মিলিশিয়া মানে হইলো নাগরিকরা এক সাথে এক জায়গায় জড়ো হবে, সেনাবাহিনীর মতো পোশাক কিনবে, মিলিশিয়ার একটা নাম দিবে, তার পরে বন্দুক, গুলি নিয়ে একেবারে কমান্ডো স্টাইলে সেনাবাহিনীর মতো প্রশিক্ষণ নিতে পারবে সম্পূর্র্ণ বেসরকারি ভাবে। এবং এই কাজটা তারা করবে আমেরিকার সরকার যাতে কোনদিন সাধারণ নাগরিকের উপর অত্যাচারি শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ন হইতে না পারে সেইটা নিশ্চিত করতে। আমেরিকার সংবিধানের এইটা একটা অসাধারণ চেক এন্ড ব্যালান্স।

উপরের বিষয়টা আবার একবার পড়ে দেখেন যদি এইটা প্রথম শুনে থাকেন।
যদিও সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কি কি ধরণের অস্ত্র নাগরিক মিলিশিয়ারা রাখতে পারবে না। যেমন নাগরিক মিলিশিয়া মেশিন গান রাখতে পারে না, কিংবা কামান ট্যাংক রাখতে পারে না।

৬৫% আমেরিকান বন্দুক কিনে এই বিশ্বাস থেকে যে এতে করে তাদের সরকার কোনদিন তাদের উপর মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করতে পারবে না । আমেরিকার আর্মির সাথে কেউ মারামারি করার জন্যে বন্দুক কিনতেছে সেইটা শুনলে আমাদের অনেকের কাছেই হাস্যকর লাগতে পারে , কিন্তু নাগরিক মিলিশিয়া গঠনের এই অধিকারটা যে সংবিধানেই দেয়া আছে, এইটা নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নাই। ”

৭। টম পেটি মারা গ্যাছে। আমার এক সময়ের খুব প্রিয় ছিলেন। আশি আর নব্বই দশকের আইকন গুলো সব ধিরে ধিরে চলে যাচ্ছে।

আমার কাছে টম পেটির সব চেয়ে প্রিয় গান, আমার আজীবনের ক্রাশ স্টিভি নিক্সের সাথে গাওয়া ডুয়েট Stop Dragging My Heart Around।

লিঙ্ক দিলাম না, যাদের শুনতে ইচ্ছা করবে ইউটিউব সার্চ শুনে নিবেন। প্রত্যেক ছ্যাঁক খাওয়া মানুষের শোনা উচিত। 😛

লেখক : জিয়া হাসান ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1122 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com