আমি ৪০ তম আবর্তনের শাকির বলছি

নভেম্বর ২৭, ২০১৭ ৭:৩৩ অপরাহ্ণ

:: আমি ৪০ তম আবর্তনের শাকির বলছি।

গত বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসের বাসে ঢাকা থেকে আসছিলাম। কম্যুনিটি বাসের দোতালায় বসে গল্প করছিলাম। হঠাৎ নিচে শোরগোলের শব্দ কানে আসায় নিচে নামলাম। দেখি ৪২ তম আবর্তনের এক জুনিয়র এক আপুকে ইচ্ছামত ঝারতেছে। জানতে পারলাম সেই আপু ৩০ তম আবর্তনের। এমন বাজেভাবে কথা বলতেছে যে আর একটু হলে আপুটা কান্না করে দিত। জানতে পারলাম ছাত্র হিসেবে কম্যুনিটি বাসে উঠায় এত গন্ডগোল। বাসের স্টাফের সাথে খারাপ ব্যবহার করার কারণে আপু ওই ছেলেকে বলছে,”বেয়াদপের মতো কথা বলতেছো কেন?” তাতেই সে আপুর প্রতি অত্যন্ত বাজে আচরণ প্রদর্শন করে । এছাড়া সে একজন সিনিয়র শিক্ষকের সাথেও খারাপ ব্যবহার করে।

ভাবলাম আমার এগিয়ে যাওয়া উচিত। আমি তার সাথে কথা বলে জানতে পারি তার নাম নাজিমুল হাসান বরণ। সে অর্থনীতি বিভাগের একজন ছাত্র ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে থাকে। আমি তাকে আপুর কাছে ক্ষমা চাইতে বলি। কিন্তু সে আমার সাথেও খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করে। পরে আমি তাকে বলি,”তোমাকে আপুর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে অথবা আমি তোমাকে বাস থেকে নামায়ে দিব।” তখন সে আপুর কাছে ক্ষমা চায় এবং আমি উপরে চলে আসি।

ঘটনা এখানেই সমাপ্ত হতে পারতো। বাস ক্যাম্পাসে ঢোকার পর বঙ্গবন্ধু হলের সামনে রাখতেই ৭-৮ জন ছেলেকে নিয়ে বরণ উপরে চলে আসে এবং ওরা কোন কিছু না শুনেই আমাকে মারতে শুরু করে। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি বাক্রুদ্ধ হয়ে যাই। আমার শার্ট ছিড়ে ফেলে, শখের সানগ্লাসটা ভেঙে ফেলে এবং মাথায় এলোপাথাড়ি প্রহার করতে থাকে।

কিছু অর্জনঃ বাংলা বিভাগের শিক্ষক মামুন-অর-রশিদ স্যার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য গর্ব করতে পেরেছেন। অন্তত একজন মানুষতো দাড়িয়েছে মেয়েটির পাশে। ধস্তাধস্তির সময়ে সেই সিনিয়র আপুর কথাটা মনে পড়ে, “তোমরা ওকে মারতেছ কেন? আমার সাথে কথা বল।” বাসের স্টাফের কথা, “বাবা আমারতো কিছু করার নাই। আমি নফল নামাজ পড়ে তোমার জন্য দোয়া করবো নে।”

বরণের জন্য কিছু কথাঃ মানুষকে ভালবাসতে শেখো। সবার সাথে ভাল ব্যবহার করো। একজন মানুষকে ভালবাসলে সে তোমাকে বিনিময়ে ভালবাসাই দিবে। ক্ষমতা নিয়ে অহংকার করো না। সুশিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি স্বশিক্ষিত হয়ে উঠো। নিজের বিবেককে জাগ্রত করো। আমি কখনো চিন্তাও করি নাই যে তোমাকে সরি বলানোর জন্য তুমি আমাকে মারার প্লান করবে। তুমি আমাকে কি বলছো,”হিরো কই?” নারে ভাই, আমি হিরোগিরি দেখাইতে যাই নাই। আমার সামনে সিনিয়রের অপমান আমি সহ্য করতে পারি নাই।

ক্যাম্পাসের নতুন ট্রেন্ডঃ জুনিয়ররা অনায়েসেই সিনিয়রদের গায়ে হাত তুলছে। এরকম আরো কিছু ঘটনার কথা আমি শুনেছি, সবাই জানে। ঘটনা গুলোর যথাযথ প্রতিকার হওয়া উচিত। যারা জুনিয়র আছো তাদেরকে বলছি, একজন সিনিয়র তার জুনিয়রদের জন্য অনেক কিছু করে। টিউশনি খুজে দেয়, টাকা ধার দেয়, নলেজ শেয়ার করে, নিজের করা নোট আর পুরোনো বই গুলো দিয়ে দেয়, এমনকি একবেলার খাবার পর্যন্ত ভাগ করে খায়। শুধু দিতেই থাকে, বিনিময়ে কি চায় জানোঃ শুধু সম্মান। মনে রেখো তোমাদের কাছে এই প্রাপ্য সম্মান্টুকু ছাড়া সিনিয়ররা আর কিছুই প্রত্যাশা করে না।

বাসায় আসার পর দেখি বাম চোখ ভয়াবহভাবে বিধ্বস্ত। আমি একজন সফটওয়্যার ডেভেলোপার অথচ ডাক্তার বলছে কম্পিউটারের সামনে বসা যাবে না। চোখে ড্রপ আর গাম দিতেছি। চার দিন যাওয়ার পরে এখনো মাথার ভিতরে একটা ভোতা ব্যাথা রয়েছে। চোখ দেখলে শিউরে উঠছে পরিচিত মানুষ-জন। কিন্তু মনের ভিতরে যে ক্ষত হয়েছে তার প্রতিকার কিসে? — feeling upset.

সূত্র : আহমেদ মুসা শাকির এর ফেসবুক থেকে।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1077 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com