আমাদের ফ্যান্টাসি জগতের স্বপ্ন দেখাবে কে?

এপ্রিল ২৯, ২০১৭ ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ

এক বন্ধুর বাসায় নতুন একজন কাজের মেয়ে এসেছে। বন্ধুর স্ত্রীর রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে সেই মেয়েটি বলল,

-আপা, আপনারে না ‘—-‘ -এর মত লাগে

-কি বললি, আবার বল

– আপনারে ‘—–‘ নায়িকার মত লাগে । আপনি দেখতে ঠিক তার মতন সুন্দর। অনেক সুন্দর। (‘—–‘ একজন জনপ্রিয় নায়িকা, কিন্তু তিনি এখন অভিনয় করেন না)

দ্বিতীয়বার এ কথা শুনে বন্ধুপত্নীর খুব রাগ হলো। তিনি স্বামীর কাছে অভিযোগ করলেন কাজের মেয়ে কেন তাকে এটা বলেছে।

স্বামী মহাশয় খুব কষ্টে হাসি চেপে কাজের মেয়েকে এসব কথা আর না বলার নির্দেশ দিলেন। পরে একদিন সেই বন্ধু আমাদের এসব কথা বলে হাসতে হাসতে শেষ।

এখন কথা হচ্ছে, কাউকে ‘কোন’ নায়িকার মত কিংবা ‘কোন’ নায়কের মত লাগে – এটা তো অহংকারের বিষয় হওয়ার কথা। কিন্তু কিছু কিছু দর্শক কেন সেটা শুনে রাগ করছে? তাহলে অবশ্যই একটা ঘাপলা রয়েছে।

উত্তর হচ্ছে, আমার এই বন্ধু পত্নী যতটা ফ্যাশন সচেতন, সেই নায়িকা তার এক কানিও না। তাই কোন তারকা যদি অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব না হয়, তবে তার মত লাগাটা কেন মন খারাপের কারণ হবে না? তবে সব শিল্পীর ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। অনেকেই অনুকরণীয়।

অভিনয় শিল্পী আর আইকন বা আইডল এক জিনিস নয়। কেননা, অভিনয় জানলেই অভিনয় শিল্পী হওয়া যায়, কিন্তু সামগ্রিক জীবনধারায় এবং চিন্তাচেতনায় দর্শকদের ভাবনার উপরে পৌছতে না পারলে ‘আইকন’ বা ‘আইডল’ হওয়া যায় না।

তাহলে, এরকম ‘আইকন’ বা ‘আইডল’ – আমাদের দেশে এখন ক’জন আছে?

অনেক আছে। তবে, সর্বজন স্বীকৃত যে কয়েকজন আছেন তাদের মধ্যে আবার অনেকেই প্রায় অভিনয় ছেড়ে দিয়েছেন।

অনেকের মধ্যে অন্যতম হলেই তো তাকে ‘স্টার’ বলা হয়। আবার সেই ‘স্টার’কে দেখে অন্যসব ‘স্টার’রা যদি ‘wow’ বলে তবেই তাকে ‘সুপার স্টার’ বলা যায়।

তাহলে একজন ‘সুপার স্টার’-এর অবস্থান কতটা উপরে!

কোন একটা দেশে একজনও সুপার স্টার না থাকতে পারে। কিন্তু কোন দেশের ‘সুপার স্টার’-এর আচরণ, উচ্চারণ, ফ্যাশন, ভাবধারা প্রভৃতি কখনও বৃহত জনগোষ্ঠীর কাছে উপহাসের পাত্র হবার কথা নয়। তার মধ্যে কিছু মানবীয় দোষত্রুটি থাকতেই পারে, কিন্তু অস্থিমজ্জাগত আচরণ এবং মানসিকতা অবশ্যই অনুকরণীয় হতে হবে। না হয় তিনি ‘আইডল’ বা ‘আইকন’ হন কিভাবে?

আসলে ‘স্টার’ কিংবা ‘সুপার স্টার’ উপমাটি মিডিয়ার সৃষ্টি। অবশ্য দর্শকদের ভাবধারার প্রতিফলন থেকেই মিডিয়া এই উপমা দিয়ে থাকে।

পৃথীবির অধিকাংশ দেশেই সেলেব্রিটি হিসেবে অভিনয় শিল্পীরা এগিয়ে। এক্ষেত্রে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীরা সবাইকে ছাড়িয়ে সবার উপরে অবস্থান করে। এরপর খেলোয়াড়, সংগীত শিল্পী, গ্ল্যামার মডেল, রাজনীতিবিদ, ইনভেন্টর প্রভৃতি পেশার লোকজনের অবস্থান। তবে সংখ্যাগতভাবে অভিনয় শিল্পীরাই বেশী।

গ্ল্যামারাস জগত বলে কথা। তাই, সেলুলয়েড জগতের এই শিল্পীদের নিয়েই মানুষের উৎসুক দৃষ্টি একটু বেশি থাকে। তারা কি খায়? কি পরিধান করে? কি পছন্দ করে? তাদের অভ্যাস কি? তাদের স্ত্রী-সন্তান কারা? তারা কিভাবে রিয়্যাক্ট করে? তাদের উপস্থিত বুদ্ধি কিরকম? ফেইসবুক/টুইটারে কি স্ট্যাটাস দিল?.. প্রভৃতি।

এসব দেখে বা জেনে কিছু দর্শক পুলকিত হয়, আর কিছু দর্শক হতাশ হয়। তারকা ব্যক্তির মানসিকতা এবং জীবনধারার মান নিজের থেকেও নিম্নতর পরিলক্ষিত হলে দর্শকবৃন্দ হতাশ হয়। তখন তাকে নিয়ে শুরু হয় ব্যঙ্গ এবং উপহাস।

দেশীয় কিছু কিছু ‘তারকা ব্যক্তি’দের সামগ্রিক আচরণ, মানসিকতা এবং প্রকাশভঙ্গী দেখে আমরা যেমন হতাশ হই, তেমনি আবার অনেককে দেখে পুলকিত হই, আর আশায় বুক বাঁধি। আশার আলোর সঞ্চার ঘটাতে সক্ষম এমন ক’জন তারকা আগামী ২-৪ বছরের মধ্যে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে উঠে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আসলে আমাদের ‘Unique Personality’ সম্পন্ন বেশ কয়েকজন তারকা শিল্পী খুব দরকার। তা না হলে আমাদের ফ্যান্টাসি জগতের স্বপ্ন দেখাবে কে? বিদেশী ভাষায় তো অনেক স্বপ্ন দেখলাম। এসব আর আমাদের সাথে যায় না। তাই, যারা স্টার-সুপারস্টারের রূপকার তারা ‘ইগো’ ঝেড়ে ফেলে গুণেমানে একটু জেগে উঠলেই কাজটা হয়ে যায়।

লেখক : সানি সানোয়ার , এডিসি বাংলাদেশ পুলিশ ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 3057 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com