আপরাধী প্রধানমন্ত্রী ও বুদ্ধিদীপ্ত দেশনেত্রী

নভেম্বর ১৪, ২০১৭ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

:: বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক দিন আগে বেশ ঘটা করেই প্রকাশ্যে ঘোষনা করলেন যে উনার উপর করা সব অন্যায় আচরন উনি মনে রাখেননি! উনি ক্ষমা করে দিয়েছেন! এটা নিয়ে অনেকে অনেক ধরনের মন্তব্য করছেন! অনেকে বলছেন, এতো খুন, গুম, এতো রক্ত ঝরানো, এতো সহজেই ক্ষমা করবো! আপনি পারলেও আমরা পারবোনা ম্যাডাম, সরি!
উনার প্রকাশ্য ক্ষমা ঘোষনা অনেক তাত্পর্যপূর্ণ! এটাকে এতো হাল্কা বিশ্লেষন করা ঠিক হবে না!
একটা উদাহারন দেয়! কোন মানুষ যখন কোন বড় ধরনের অপরাধ করে, তারপর তার যখন ধরা পরার সময় হয়ে যায়, তখন সে আপ্রান চেস্টা করে নিজেকে বাঁচাতে! যখন কোন ভাবেই বাঁচানো সম্ভব না হয়, তখন কোন কোনায় লুকায়ে অতিরিক্ত ভয়ে ঠক ঠক করে কাঁপতে থাকে আর হাতের কাছে যা পায়, তাই দিয়ে এমন ভাব করে যে, যেই সামনে আসবে, হয় তারে খুন করে ফেলবে, না হয়, নিজেকেই শেষ করে ফেলবে! এমন পরিস্তিতিতে বুদ্ধিমান মানুষরা তার ভয় কাটানোর জন্য, কাছে গিয়ে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলে, ভয় কাটানোর চেস্টা কর, বলে তোর কিচ্ছু হবে না, কেউ তোকে কিছু বলবেনা! এতে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কাজ হয়! ভয় পাওয়া অপরাধী আশ্বাস্ত হয়! হাতের অন্ত্র ফেলে দিয়ে নিজেকে বাচানোর সর্বশেষ চেস্টা করে, এবং নিজেকে সেই আশ্বাস দেয়া মানুষটির কাছে সপে দেয়! পরে তারে যথা নিয়মে বিচারের আওতায় আনা হয়! এখানে সবচেয়ে বড় যে পরিত্রান সেটা তৎক্ষনাৎ পাবলিকের টাটকা গনপিটুনি থেকে বেঁচে যায়!

এখানে বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হলো সেই অপরাধী আর বেগম খালেদা জিয়া হলেন সেই বুদ্ধিমান মানুষ! এমনে এমনেই উনি দেশনেত্রী উপাধী পাননি! উনি চিন্তা করছেন দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা! কারন ওরা যে পরিমান পাপ করেছে তাতে জনরোষের স্বীকার হলে ভয়ঙ্কর ম্যাসাকার হয়ে যাবে, এতে ওদের পাশাপাশি দেশের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। সেখানে উনি যদি ক্ষমা না করে উস্কানী দেন (যা আরেকজন সব সময় করে থাকে, একটা লাশের পরিবর্তে দশটা লাশ চায়) তাহলে আগুনে ঘী ঢালা হবে, যা পরিস্তিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলবে!
আবার অন্যদিকে শেষ সময়ে এসে মরন কামড় দিয়ে ওরা যদি দেশের বড় কোন ক্ষতি করে বসে! সবদিক বিবেচনা করে উনি এমন ঘোষনা দিয়েছেন! উনার ক্ষমা মানে এটা না যে ওদেরকে সব পাপ থেকে দায় মুক্তি দেয়া হলো! ওদেরকে সেই টাটকা গনপিটুনির হাত বাচানোর চেস্টা করা হলো! এরপরও দেশের নির্যাতীত জনগন তাদের সাথে কি ব্যাবহার করবে সেটা তাদের বিবেচনা!
না হলে এদের অন্যায়ের সবচেয়ে ভয়াবহ স্বীকার উনি নিজে এবং তার পরিবার! দুইটা ছেলের একজনকে চির তরে হারাতে হয়েছে এদের ভয়াবহ নির্যাতনের কারনে। আরেকটা ছেলকে পঙ্গু করে দেবার চেস্টা করা হয়েছে। নিজের বসতবাড়ি ছাড়া করেছে সম্পূর্ন অন্যায় ভাবে! এমন কোন অপমানজনক আচরন নেই যা করা হয়নি উনার সাথে! তারপরও জাতীর বৃহত্তর স্বার্থে তাকে সবকিছু ভুলে ক্ষমা ঘোষনা করতে হয়েছে! তবে দেশের মানুষের প্রতি অন্যায় আচরনের জবাব তারা তাদের মত করেই দেবে! এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোন অবকাশ নেই!

লেখক : মাহমুদুল খান, কনসালটেন্ট ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1302 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com