আনিসুলের মৃত্যু: বিএনপিতে আলোচিত ৪ মুখ

ডিসেম্বর ৪, ২০১৭ ৮:০১ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সিটি করপোরেশনটিতে নতুন নির্বাচনের যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার বাতাস লেগেছে বিএনপিতেও। আনুষ্ঠানিক কোনও আলোচনা না হলেও দলের তৃণমূল থেকে হাইকমান্ড পর্যন্ত বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা এবং দলে প্রার্থী কে হতে পারেন- এ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু হয়ে গেছে।

ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপি ও জোটের চার নেতার নাম নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে দলের হাইকমান্ড।

এই চারজন হলেন- গত নির্বাচনে আনিসুল হকের কাছে হেরে যাওয়া ধনকুবের ও দলের ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল, ভাইস-চেয়ারম্যান ও গুলশান এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর (অব) কামরুল ইসলাম, দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু এবং ২০ দলীয় জোটের শরীক দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আলোচনার শুরুটা করেছেন চেয়ারপারসন নিজেই।

শনিবার আনিসুল হকের দাফনের পর বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ও প্রধানশালী নেতা মিলিত হয়েছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানের পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, মীর্জা আব্বাস ও ড. মঈন খান চেয়ারপারসনের সাথে আলাদাভাবে দেখা করেন।

এ ছাড়াও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমদ, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকসহ বেশ কয়েকজন নেতাও দেখা করেন।

আবুল খায়ের ভূঁইয়া পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ম্যাডাম নিজেই আনিসুল হকের কথা তুলেছিলেন। তিনি বলেছেন, সে (আনিসুল) ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হলেও মেয়র হিসেবে অনেক কাজ করার চেষ্টা করেছে।

আবুল খায়ের বলেন, সেখানে নোয়াখালী এলাকার আরও অনেক লোক ছিলেন।

বিএনপি নেতারা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য নেতাদের মধ্যে স্বচ্ছ ইমেজ, ব্যক্তিগত কারিশমার পাশাপাশি বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকার প্রার্থী নির্বাচনে এখন থেকেই নজর দিচ্ছে বিএনপি। কারণ একদিকে আনিসুল হক ছিলেন বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান। আবার ডিএনসিসি এলাকায় নোয়াখালী অঞ্চলের একটি বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে। তাই নোয়াখালী অঞ্চলের প্রার্থী প্রয়োজন হবে।

বিএনপি নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাতে নোয়াখালী এলাকার বেশ কয়েকজন নেতা পরোক্ষভাবে আগামী নির্বাচনে দল অংশ নিলে ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুকে প্রার্থী করার বিষয়টি আলোচনায় আনেন। তারা যুক্তি দিয়ে বলেন, বরকত উল্লাহ বুলু দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-১৭ (উত্তরা) আসনে নির্বাচন করার জন্য কাজ করে আসছেন। সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব এবং সাবেক যুবদল সভাপতি হিসেবেও তার সে এলাকায় একটি কর্মীবাহিনী রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকার মানুষ হিসেবে নোয়াখালীবাসীর কাছেও তার একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। এসব যুক্তির পাশাপাশি ত্যাগী এই নেতা অতীতেও দলের প্রয়োজনে পদ-পদবী থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এমনকি এক সময় সংসদ সদস্যের মনোনয়ন থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। তাই এবার তাকে পুরস্কৃত করার বিষয়টি সামনে আনেন নোয়াখালী অঞ্চলের নেতারা। তারা বলেন, চার দলীয় জোট সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা থাকার কারণে বুলুর ব্যবসায়ীদের সাথেও একটি ভাল সম্পর্ক রয়েছে।

আবুল খায়ের ভূঁইয়া পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, শনিবারের আলোচনার কথা বলতে পারব না, তবে দল নির্বাচনে গেলে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যে সিদ্ধান্ত নিবেন তাই চূড়ান্ত ধরে আমরা কাজ করব।

ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, সেখানে অনেকেই ছিলেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাসহ নোয়াখালী এলাকার অনেকেই বেগম জিয়ার সাথে দেখা করেছেন।

তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে চেয়ারপারসন এবং দলে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড প্রার্থিতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন।

অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সব শেষ নির্বাচনের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে নিয়ে দলে আলোচনা থাকলেও অস্বস্তিও রয়েছে। সম্প্রতি প্যারাডাইস পেপারস কেলেংকারিতে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, তাবিথ আউয়ালসহ তাদের প্রায় পুরো পরিবারের নাম এসেছে। এতে করে অস্বস্তিতে পড়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বিএনপির তৃণমূলেও ক্ষোভ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাবিথ আউয়ালকে প্রার্থী করাটা কতটা ঠিক হবে সে আলোচনা এখন থেকেই ভাবিয়ে তুলেছে বিএনপি নেতাদের।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এখনও সেভাবে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে নির্বাচন হলে আমরা নিশ্চই নির্বাচনে যাব।

মওদুদ বলেন, আনিস শুধু বৃহত্তর নোয়াখালী নয়, আমার নির্বাচনী এলাকার। ঢাকা উত্তরেও নোয়াখালীর অনেক ভোটার। তিনি আরও বলেন, তাবিথ যেহেতু ওই এলাকায় নির্বাচন করেছিল- হি ইজ নোন টু অল। তারপরও দেখা যাক। আলোচনা আমাদের হবে। সময় আসুক, আমরা আলোচনা করে ঠিক করব কী করা যায়।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব) কামরুল ইসলাম দলে ডায়নামিক ও স্বচ্ছ মানুষ হিসেবে পরিচিত। পর্দায় সক্রিয় না থাকলেও মেজর কামরুল দলে দুর্দিনে গত এক দশকে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সার্বিক যোগাযোগ রেখে চলেছেন। গুলশান আসন ভেঙে নতুন তিন আসন হওয়ার আগে তিনি অখণ্ডিত গুলশান নির্বাচনী এলাকার জনপ্রিয় সংসদ সদস্য ছিলেন। আগের সে অখণ্ডিতও গুলশানই মূলত এখনকার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মূল অংশ। যে কারণে এই এলাকার বিএনপি মেয়র প্রার্থী হিসেবে কামরুল ইসলামের নাম বিএনপিতে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু ভোটের সমীকরণে নোয়াখালী এলাকার ভোট ব্যাংক কামরুল ইসলাম কতটা টানতে পারবেন তা নিয়ে শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসের কার্যালয়ে পর্যালোচনা হয়েছে।

এরপর মেয়র প্রার্থী তালিকায় ঘুরে ফিরে আসছে ২০ দলীয় জোটের শরীক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান প্রার্থর নাম। বিএনপি নেতারা মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে নিজেদের ইমেজ ঠিক রাখতে সরকার একটি নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য থাকবে। সেক্ষেত্রে সব মহলে গ্রহণযোগ্য ও দলের বাইরের প্রার্থীর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন রাখা যায় এমন প্রার্থী হিসেবে আব্দালিব রহমান প্রার্থর নাম প্রস্তাব করছেন কেউ কেউ।

তরুণ ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্থ হিসেবে পার্থকে ঢাকা উত্তরে সামনে এনে আনিসুল হকের পরবর্তী মেয়র প্রার্থী হিসেবে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা।

তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পার্থর বিষয়টি কেবল আগামী সংসদ নির্বাচনের সমীকরণ থেকেই ভাবছে বিএনপি।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1031 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com