অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সব কিছুরই অবনতি হয়েছে

ডিসেম্বর ২২, ২০১৭ ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ

:: আগে ভাতের জন্য ছিনতাই করত, এখন নাকি ইয়াবার জন্য করে।

আগে প্রেম করত বেশ ভয়ে ভয়ে, এখন একাধিক প্রেম করে নির্ভয়ে। আগে পাড়ার চাচাদের ভয়ে ছেলেপেলেরা মার্বেল খেলা বন্ধ করে দৌড় দিত, এখন আপন চাচার সামনে সিগারেট ফুঁকে। আগে শুধু ঈদেই পাওয়া যেত নতুন জামা। এখন সারা বছরব্যাপী পাওয়া যায় নতুন জামা, আর ঈদে শুধু পাঞ্জাবী দু’একখানা।

আগে কেউ অসুস্থ হলে লোকজন গ্লুকোজ অথবা ফলমূলাদি নিয়ে রুগী দেখতে যেত। এখন শুধু সেল্ফি তুলে আপলোডে মত্ত।

অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে অপরাধের কারণ, ব্যক্তির চাহিদা, প্রেমের অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ধরণ – সব কিছুরই অবনতি হয়েছে।

প্রায় ১৫ বছরের জুনিয়র এক ভার্সিটি ছোট ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম –

– প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ক্যাম্পাসে কি কেউ এখন আর লাইনচ্যুত হয়?

– ভাই যে কি বলেন না! এইসবের কি বেল আছে?

– বলিস কি! এত উন্নতি!

– জি ভাই, সবাই এখন যার যার ধান্দায় ব্যস্ত।

শুনে ভালই লাগল। কেননা, আগে প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া অসংখ্য প্রেমিক-প্রেমিকাকে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে জীবন থেকে ছিটকে পড়তে দেখেছি। তাই হাতে আসা এনরয়েড মোবাইলের কল্যাণে হাতে ‘মাল্টিপল অপশন’ থাকায় আবেগ উধাও হওয়ার ফলে এই একটা উন্নতি অন্তত খুব মনে ধরল।

১৩ বছরের এক কিশোর নব্য ধনাঢ্য পিতামাতার একমাত্র ছেলে। স্কুলে ‘প্যারেন্টস ডে’-তে সবার বাবা-মা স্কুলে আসলেও তার বাবা-মা’কে কখনও দেখা যায় না। অনুসন্ধিৎসু বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করল-

– তোর প্যারেন্টস কখনও স্কুলে আসে না কেন রে?

– দু’টাই ক্ষ্যাত, তাই আসতে দেই না।

– মানে!!!!

– মানে কিছু না।

– কি বলিস!

– ইয়াহ, দ্যাটস দ্যা রিয়ালিটি, মাই ফ্রেন্ডস। আই অ্যাম অ্যালোন। সো ডোন্ট থিংক দ্যাট আই হ্যাভ পারেন্টস এভার।

গগন বিদীর্ণ করে আমরা উঠে যাচ্ছি আসমানে। কিন্তু, পাতাল ফুটো করে মমতা, বন্ধন আর মূল্যবোধ মিশে যাচ্ছে জমিনে।

লেখক : সানি সানোয়ার, এডিসি, বাংলাদেশ পুলিশ ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1197 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com